হামলার আশঙ্কায় ছায়ানট এলাকায় কঠোর নজরদারি জোরদার

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছায়ানটকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের হামলার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রগতিশীল চেতনার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছায়ানট ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, দুপুরে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনের সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ভবনের প্রধান ফটকে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট। প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রতিটি পথেই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের সড়কগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ, পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের গতিবিধির ওপর রাখা হচ্ছে কড়া নজর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন দৃশ্য সাধারণত খুব একটা দেখা যায় না, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতাই স্পষ্ট করে তুলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছায়ানটকে কেন্দ্র করে যাতে পুনরায় কোনো হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকেই ছায়ানটের সদস্যরা ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব-নিকাশের কাজ শুরু করেন। তবে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় জুমার নামাজের আগেই সবাইকে ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়।

ছায়ানটের একাধিক সদস্য জানান, জুমার নামাজের পর আবারও হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা তাদের মধ্যে প্রবলভাবে কাজ করছিল। অতীত অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ঘটনার আলোকে তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। সে কারণেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত ভবন খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।

এ বিষয়ে রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ছায়ানটসহ রাজধানীর যেসব এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ছায়ানট ভবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছায়ানট বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।