বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে ২০২৫ সাল নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অধ্যায়। এত বৈচিত্র্য, বাণিজ্যিক সাফল্য ও সাংস্কৃতিক প্রভাব একসঙ্গে খুব কম বছরেই দেখা গেছে। বছরজুড়ে বিশ্বের নামী শিল্পী ও ব্যান্ডগুলো একের পর এক ওয়ার্ল্ড ট্যুরে বেরিয়েছেন, আর সেই কনসার্টগুলোতে যোগ দিতে মহাদেশ পেরিয়ে ভক্তরা ছুটে গেছেন। ফলাফল—লাইভ মিউজিক শুধু বিনোদনের জায়গায় সীমাবদ্ধ না থেকে অনেক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন গান ও অ্যালবামের বন্যা, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে পেইড সাবস্ক্রিপশনের উল্লম্ফন এবং সংগীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক ব্যবহার—সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল বিশ্বসংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
লাইভ মিউজিকের ক্ষেত্রে এই বছরটি ছিল কার্যত যুগান্তকারী। দর্শকসংখ্যা ও আয়ের দিক থেকে একাধিক সংগীতসফর ভেঙে দিয়েছে আগের সব রেকর্ড। দি উইকেন্ডের ‘আফটার আওয়ারস টিল ডাউন ট্যুর’ ছিল বছরের সবচেয়ে আলোচিত আয়োজন, যা একাই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। অন্যদিকে, কোল্ডপ্লের ‘মিউজিক অব দ্য স্পেয়ারস ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ দর্শকসংখ্যার বিচারে সংগীত ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ট্যুরে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েসিস, বিয়ন্সে, এড শিরান ও ডুয়া লিপার সফরগুলোও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ছড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য সংগীতসফর (২০২৫)
| শিল্পী/ব্যান্ড | ট্যুরের নাম | বিশেষ অর্জন |
|---|---|---|
| দি উইকেন্ড | After Hours Till Dawn | ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় |
| কোল্ডপ্লে | Music of the Spheres | ইতিহাসের অন্যতম বড় দর্শকসংখ্যা |
| বিয়ন্সে | Cowboy Carter Tour | নতুন সাউন্ড ও থিমে প্রশংসিত |
| এড শিরান | Mathematics Tour | ধারাবাহিক সোল্ড আউট শো |
| ডুয়া লিপা | Radical Optimism Tour | তরুণ শ্রোতাদের উন্মাদনা |
ভাষা ও ঘরানার ক্ষেত্রেও ২০২৫ ছিল বৈচিত্র্যের বছর। ইংরেজি গানের পাশাপাশি আফ্রোবিটস, লাতিন পপ ও আরবি পপ বিশ্ববাজারে দারুণভাবে জায়গা করে নিয়েছে। কে-পপের প্রভাব আরও গভীর হয়েছে। রোজের ‘আপাতে’ আগের বছর মুক্তি পেলেও ২০২৫ জুড়ে শীর্ষ চার্টে অবস্থান করেছে। বিটিএসের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ফেরা কোরিয়ান সংগীতশিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এ ছাড়া ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাক বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে, আর টুমরো এক্স টুগেদার ও এসপা নতুন শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
ডিজিটাল দুনিয়ার দাপটের মাঝেও এ বছর ফিরে এসেছে সিডি ও ভিনাইলের আবেদন। শৌখিন সংগীতপ্রেমীরা আবার অ্যানালগ অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন। সেই চাহিদা মাথায় রেখে টেইলর সুইফট, ডেভিড বোয়ি, এড শিরান ও বিলি আইলিশের মতো তারকারা ভিনাইল ও সিডিতে অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন—যা সংগীতের নস্টালজিয়া ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে এআই ব্যবহারে। গান লেখা, সুর করা থেকে শুরু করে প্রোডাকশনে এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। তবে এতে মৌলিকতা, শিল্পীর অধিকার ও নৈতিকতা নিয়ে তর্কও চলেছে সারা বছর। তবু একথা স্পষ্ট—২০২৫ সাল বিশ্বসংগীতকে শুধু সফলই করেনি, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দিয়েছে।
