৩১ বছরের জাদু নিয়ে আবারও আমেরিকা কাঁপাতে চলেছেন সোনু নিগম!

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সোনু নিগম চলতি মাসের শেষেই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এক নতুন সঙ্গীত সফর শুরু করতে চলেছেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের আন্তর্জাতিক যাত্রায় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতাদের সঙ্গে যে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছেন, এই সফর সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন তিনি। সোনুর কাছে বিদেশে পারফর্ম করা কেবল একটি শো নয়—এটি তাঁর কাছে আবেগ, নস্টালজিয়া, সাংস্কৃতিক গর্ব এবং ভারতীয় সুরের প্রতি এক অনন্য ভালোবাসার প্রকাশ।

বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে, সোনু নিগম খোলামেলা কথা বলেছেন তাঁর আসন্ন সফর, আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের সঙ্গে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধন এবং লাগাতার যাতায়াতের মধ্যেও কীভাবে কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখেন, সে বিষয়ে।

তিন দশকের বন্ধন—যা আরও শক্তিশালী হচ্ছে সময়ের সাথে

সোনু বলেন, “আমি ভীষণ ভাগ্যবান যে সারা বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পেয়েছি। বিশেষ করে আমেরিকা ও কানাডার শ্রোতারা সত্যিকারের রসিক—তারা পুরনো চিরকালীন ক্লাসিক থেকে শুরু করে নতুন ঘরানার সুরও সমানভাবে উপভোগ করেন। গত তিন দশকে আমেরিকায় অসংখ্যবার শো করার ফলে তাঁদের সঙ্গে এক অদ্ভুত মনের টান তৈরি হয়েছে।”

তিনি জানান, তিনি সবসময় চেষ্টা করেন শ্রোতাদের জন্য কিছু না কিছু নতুন উপহার দিতে—হোক তা নতুন সংগীত ধারা, অভিনব অ্যারেঞ্জমেন্ট বা আরও আধুনিক পারফর্মেন্স স্টাইল। এই বিশ্বস্ত শ্রোতারা তাঁকে প্রতিনিয়ত আরও সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।

বিদেশে শো—আবেগের অন্যরকম টান

ভারত ও বিদেশের শ্রোতাদের মধ্যে মূল পার্থক্য কী—এ প্রশ্নে সোনু বলেন, “বিদেশে বসবাসকারী মানুষজন ভারতীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ঐতিহ্যকে গভীরভাবে মিস করেন। যে জিনিস আমরা দেশে থেকে প্রায়ই স্বাভাবিক মনে করি, সেটাই ওদের কাছে অমূল্য। বিদেশে মঞ্চে দাঁড়ালে তাঁদের আন্তরিক আকুলতা আমি স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারি।”

এই নস্টালজিয়ার টানই বিদেশের শোগুলোকে আরো আবেগপূর্ণ করে তোলে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা সোনুর কাছে অমূল্য মনে হয়।

নতুন সফর—নতুন প্রতিশ্রুতি

আসন্ন মার্কিন সফরকে সামনে রেখে সোনু নিগম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি শ্রোতাদের সামনে এমন এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন যা হবে তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশের প্রতিফলন এবং ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর এই সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও একবার মঞ্চে নতুন আলোয় ধরা দেবে।