৬২ বছর বয়সে কুনিকা: কুমার শানুর সঙ্গে সম্পর্ক স্বীকার, আবার বিয়ে চান

বলিউডের পরিচিত মুখ কুনিকা সদানন্দ আবারও ব্যক্তিগত জীবনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার শানুর সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে মুখ খুলে সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শোতে তিনি জানান, একসময় তারা দীর্ঘদিন একত্রবাসে ছিলেন এবং সম্পর্কটি ছিল অনেকটাই স্বামী-স্ত্রীর মতো।

কুনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্কটি যদিও বর্তমানে আর নেই, তবে জীবনের সেই অধ্যায় তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে থাকতাম, সংসারও করতাম— কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলে যায়।” অতীতের সম্পর্ক নিয়ে অনুতাপ নয়, বরং বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মনোভাবই তার কথায় স্পষ্ট।

বর্তমানে ৬২ বছরে পা রাখা এই অভিনেত্রী আবারও নতুন করে জীবনের সঙ্গী খুঁজতে আগ্রহী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বয়স তার কাছে কোনো বাধা নয়; বরং ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও গভীরভাবে অনুভব করেন। “এই বয়সেও আমি ভালোবাসার কাঙাল,”— এমন স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত মানুষ পেলে আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে দ্বিধা করবেন না।

তার দীর্ঘ জীবনে কুনিকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিজ্ঞতাও কম নয়। দুটি একত্রবাস, চারটি প্রেম এবং দুটি বিয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে তার জীবন। তবুও তিনি মনে করেন, ভালোবাসার প্রতি আকর্ষণ কখনো কমে যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও পরিণত হয়।

নিচে কুনিকা সদানন্দের ব্যক্তিগত জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিষয়সংখ্যা/তথ্য
বয়স৬২ বছর
একত্রবাস২টি
প্রেমের সম্পর্ক৪টি
বিবাহ২টি
আলোচিত সম্পর্ককুমার শানুর সঙ্গে

সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুনিকা। তার মতে, পুরুষদের একাধিক সম্পর্ককে অনেক সময় সহজভাবে নেওয়া হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্যতা পায় না। “আমাদের সমাজে নারীদেরও নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার থাকা উচিত,”— স্পষ্টভাবেই বলেন তিনি।

অভিনয়জগতের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কুনিকা জানান, তিনি কখনো কোনো সহ-অভিনেতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি। তার মতে, অনেক অভিনেতাই নিজেদের নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে অন্য কাউকে সময় দেওয়া বা ভালোবাসা সম্ভব হয় না। “অভিনেতারা বেশিরভাগ সময় নিজের চেহারা, নিজের উপস্থিতি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন,”— মন্তব্য তার।

সব মিলিয়ে, জীবনের নানা ওঠাপড়ার পরও কুনিকা সদানন্দ এখনো আশাবাদী— ভালোবাসা আবার তার জীবনে ফিরে আসবে। বয়সকে উপেক্ষা করে নতুন করে সংসার গড়ার এই ইচ্ছাই তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।