বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরু-এর একটি প্রাঙ্গণে ড্যানিশ ব্যান্ড মাইকেল রক শিখেছে-এর কনসার্ট ছিল যেন ৯০-এর দশকের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক সরাসরি নস্টালজিয়া ভ্রমণ। সংগীতপ্রেমীরা গানগুলো মুখস্ত গেয়ে উঠলেন, অনেকে তাদের সন্তানদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে। বিশেষ করে ব্যান্ডের হিট গানগুলো – ঘুমন্ত শিশু, কোনওদিন কোথাও, ২৫ মিনিট, এবং আমার ভালোবাসা আঁকুন– শোনার মুহূর্তে পুরো হল উদ্দীপনায় ভরে উঠল।
কনসার্টের শুরুতেই ব্যান্ডটি কোন দিন দিয়ে পরিবেশনার সূচনা করল। এরপর তারা ২৫ মিনিট, আউট অফ দ্য ব্লু, ব্রেকিং মাই হার্ট-এর মতো পুরনো এবং প্রিয় গানগুলোর এক অবিরাম স্রোত উপহার দিল। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে আমার প্রেম আঁকা গানটির মাধ্যমে, যা দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের প্রিয়। ব্যান্ডের সদস্যরা – জাসচা রিখটার, মিকেল লেন্টজ এবং অনুসরণ – মঞ্চে অসাধারণ সমন্বয় ও প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন।
ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানা যায়,ভারত তাঁদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত। ব্যান্ড মনে করিয়ে দেয়, অভিনেতা গানটি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, তখন প্রমোশন সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু ভারতের একটি ট্যুরের ডাক তাঁদের পথ বদলে দেয়। ব্যান্ডের বক্তব্য, “ভারতে আমাদের প্রথম ট্যুর আমাদের জীবনে সবকিছু পাল্টে দিল। আমরা সবসময় এখানে ফিরে আসতে ভালোবাসি।”
এই কনসার্টে দর্শকরা বিভিন্ন প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রেমী ছিলেন। নিচের টেবিলে ব্যান্ডের প্রধান হিট গানগুলো এবং তাদের মূল প্রকাশ সাল তুলে ধরা হলো:
| গান | প্রকাশ সাল | মন্তব্য |
|---|---|---|
| কোন দিন | ১৯৯৫ | কনসার্টের উদ্বোধনী গান |
| স্লিপিং চাইল্ড | ১৯৯৩ | ৯০-এর দশকের ক্লাসিক, নস্টালজিয়া উদ্রেকক |
| ২৫ মিনিটস | ১৯৯৩ | ভক্তদের প্রিয় ব্যালেড |
| আউট অব দ্য ব্লু | ১৯৯১ | ব্যান্ডের প্রথম আন্তর্জাতিক হিট |
| ব্রেকিং মাই হার্ট | ১৯৯১ | দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জিত গান |
| পেইন্ট মাই লাভ | ১৯৯৬ | কনসার্টের সমাপ্তি গান, ভক্তদের ফেভারিট |
প্রায় তিন ঘণ্টার এই কনসার্টে উপস্থিত দর্শকরা ব্যান্ডের সংগীতের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। অনেকেরই সন্তানরা প্রথমবারের মতো তাদের বাবা-মায়ের প্রিয় গানগুলো শুনে বড় পর্দার আনন্দ উপভোগ করলেন। দর্শকরা কেবল গান নয়, ব্যান্ডের সাথে তাদের নস্টালজিক মুহূর্তগুলোও স্মরণ করলেন।
বেঙ্গালুরুর এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করল, সঙ্গীতের মধ্যে প্রজন্মের ফারাক মুছে যায় এবং ভালো গান চিরন্তন আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করে। এমএলটিআর-এর ৯০-এর দশকের হিট গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে প্রাণবন্ত।
মোট বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি ১৯ তারিখটি শুধুই একটি কনসার্টের দিন ছিল না; এটি ছিল ৯০-এর দশকের এক নস্টালজিয়ার রাত, যেখানে পুরনো স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করা হলো।
