বাংলাদেশের স্কুলে সঙ্গীত-শারীরিক শিক্ষা বন্ধ, কারণ কি?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারি বিদ্যালয়ে সঙ্গীত এবং শারীরিক শিক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে, এই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগেরও সুযোগ থাকছে না। সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে কী রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে ধর্মীয় চাপ এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব।

সোমবার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা সহকারী শিক্ষক পদ বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাসুদ আখতার খান এ বিষয়ে বলেন, “আগের নিয়মে শিক্ষক নিয়োগের জন্য চারটি শ্রেণী ছিল, এখনো রয়েছে তবে সংশোধনীর মাধ্যমে দুটি শ্রেণী যোগ করা হয়েছে। কিন্তু সঙ্গীত এবং শারীরিক শিক্ষার পদগুলো আর থাকবে না।”

এ বিষয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এসেছে ইসলামী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে। তারা একাধিক বার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এবং সঙ্গীত শিক্ষাকে ইসলামবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছে। জামায়াত-ই-ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ এবং হেফাজতে ইসলাম—এসব গোষ্ঠী সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ রেজাউল করিম এক সমাবেশে সতর্ক করে বলেন, “যদি সঙ্গীত শিক্ষকের নিয়োগ চালু করা হয়, তবে তা আমাদের কাছে এক ধরনের সাংস্কৃতিক অবক্ষয়। আমরা কখনো তা মেনে নেব না।”

এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।

এটি একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরে—বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে?

এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সরকারের এই পদক্ষেপকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একদিকে সংস্কৃতি এবং শিক্ষা বিষয়ে জাতির ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে ধর্মীয় মৌলবাদ এবং তার প্রভাব—এই দুয়ের মাঝে এক বড় সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে সরকার।