ঢাকা—প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। আজ চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক স্পষ্টকরণে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষা বা সংস্কৃতিবিরোধী নয়; বরং পরিকল্পনাগত ত্রুটি ও বাস্তবায়নগত সীমাবদ্ধতার কারণেই তা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে সরকার দেশের ২,৫০০টি স্কুল ক্লাস্টারের প্রতিটিতে শারীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত—এই দুই বিষয়ে সমান সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল সীমিত সম্পদের মধ্যে বিশেষায়িত শিক্ষাকে প্রাথমিক স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা। তবে পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
সচিব কমিটির মূল্যায়নে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের নকশায় মৌলিক ত্রুটি ছিল। কমিটির মতে, এত সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করে সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর ও টেকসই সুফল আনা সম্ভব নয়। বরং এতে বিদ্যালয়ভেদে সুযোগ–সুবিধার বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, যা প্রাথমিক শিক্ষার সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের পরিপন্থী।
সরকারি হিসাবে, দেশে বর্তমানে মোট ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রস্তাবিত ক্লাস্টারভিত্তিক ব্যবস্থায় একজন শারীরিক শিক্ষা বা সঙ্গীত শিক্ষককে একসঙ্গে ২০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হতো। কমিটি এটিকে “অব্যবস্থাপনাজনিত ও অকার্যকর” ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এভাবে শিক্ষকরা কোনো একটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিক কাজ করার সুযোগ পেতেন না, ফলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা কঠিন হতো।
নিচের ছকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কিছু মূল তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় | ৬৫,৫৬৯ |
| প্রস্তাবিত স্কুল ক্লাস্টার | ২,৫০০ |
| প্রতি ক্লাস্টারে শিক্ষক (প্রস্তাবিত) | সীমিত |
| একজন শিক্ষকের সম্ভাব্য বিদ্যালয় সংখ্যা | ২০টির বেশি |
সরকার আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “ভবিষ্যতে যদি পর্যাপ্ত তহবিলের ব্যবস্থা করা যায় এবং একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি সম্ভব হয়, তবে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।”
এদিকে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে, সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য একটাই—প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমতাভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত করা, যাতে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়।
