প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিলের প্রতিবাদে উদিচির আন্দোলন

প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দেশের সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদিচি শিল্পীগোষ্ঠী। আজ সোমবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন—এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং শিশুদের মানবিক ও শিল্প–সৃজনী বিকাশের ওপর সরাসরি আঘাত।

সত্যেন সেন সঙ্গীত একাডেমির সামনে সমবেত সাংস্কৃতিক কর্মীরা

দুপুর ১২টা নাগাদ উদিচির গাজীপুর ও কাপাসিয়া শাখার ৫০ জনেরও বেশি সদস্য কাপাসিয়া শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত সত্যেন সেন সঙ্গীত একাডেমির সামনে জড়ো হন। সেখানে গান, স্লোগান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের সূচনা হয়। দেশজুড়ে একই দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে—আজকের এই কর্মসূচি ছিল তার অংশ।

“শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে”—জাহাঙ্গীর হোসেন

গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন—

“প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিল করা মানে শিশুদের মানবিক, নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করা।”

তিনি বলেন, বিশ্ব আজ সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—

  • সৌদি আরবে ১৭,০০০ নারী শিক্ষার্থীকে সঙ্গীতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

  • ২০২২ সালে সেখানে ১২,০০০ শিক্ষার্থীকে সঙ্গীত শিক্ষা প্রদান

এই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন—

“বিশ্ব যখন শিল্পশিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে, আমরা তখন পিছিয়ে যাচ্ছি। এটি লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“আমরা দাবি করে এসেছি যে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদা সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। অথচ সরকার উল্টো বিদ্যমান পদটিই বাতিল করেছে—এটি সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য বড় বাধা।”

“অদৃশ্য কারণে পদ বাতিল”—উদিচি নেতৃত্বের অভিযোগ

উদিচি কাপাসিয়া শাখার সভাপতি নূরুল আমিন সিকদার বলেন—

“অদৃশ্য কোনো কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ বাতিল করা হয়েছে। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, আমাদের আজকের কর্মসূচি তারই অংশ।”

তিনি জানান, শিশুদের সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য সঙ্গীত, খেলাধুলা ও শিল্পচর্চা অপরিহার্য; তাই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ছাড়া বিকল্প নেই।

সংহতি জানালেন রাজনৈতিক নেতারা

কাপাসিয়া উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধিক ফকির প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে বলেন—

“এ বিষয়ে আর নীরব থাকা যাবে না। শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিল্প ও শিক্ষা–বিরোধী সিদ্ধান্ত দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।”

জাতীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসংগীতে প্রতিবাদের সমাপ্তি

কর্মসূচির শেষাংশে সত্যেন সেন সঙ্গীত একাডেমির শিক্ষার্থীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর তারা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরকালীন অনুপ্রেরণামূলক গান “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে”, যা প্রতিবাদী সমাবেশে নতুন উদ্দীপনা যোগ করে।

উদিচির দাবিসমূহ (সংক্ষেপে)

ক্র. নংদাবি
সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার
বাতিলের পেছনে থাকা কারণের স্বচ্ছ তদন্ত
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার স্বতন্ত্র শিক্ষক নিয়োগ
শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো

 

শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আজকের এই কর্মসূচি প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সমাজ শিল্প–সংস্কৃতির ওপর আঘাতের বিরুদ্ধেই সংগঠিত থাকবে এবং শিশুদের সৃজনশীল শিক্ষাভিত্তিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাবে।