হাইকোর্ট আজ সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিউজিক ও শারীরিক শিক্ষা (পিই) শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানকে এই রুলের বিষয়ে জবাবদিহি করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বেঞ্চটি, যা বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসান নিয়ে গঠিত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রুল জারি করেছে। ব্যারিস্টার শুক্লা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন।
শুক্লা বেঞ্চে যুক্তি দেন যে শারীরিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য, যা নাগরিকদের কল্যাণ ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন, যেখানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং কল্যাণ সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃত। এই অধিকার অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের ভাল স্বাস্থ্য এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
শুক্লা আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, সব সদস্য রাষ্ট্রকে শিক্ষাসহ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে এবং বাংলাদেশের এসডিজি প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি বাংলাদেশের প্রায় ৬৫,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমও অপরিহার্য। এগুলো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের দক্ষতা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্লা সতর্ক করেন, যদি পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকেন, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শারীরিক বা সাংস্কৃতিক চর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে না। এর ফলে জাতীয় দক্ষতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংক্ষেপে, হাইকোর্ট সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা পুনর্বিবেচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বলেছে, যাতে শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য, সামগ্রিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা করা যায়।
