রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২১ জুলাইয়ের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার ১০০ দিন কেটে গেছে। দীর্ঘ এই সময়কাল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের জন্য মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। দুর্ঘটনার তীব্র স্মৃতি এখনও অনেকের মনে জড়িয়ে আছে। তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম এবং বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক শান্তি ও সৃজনশীলতায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
৪ নভেম্বর, স্কুলের একটি শাখায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানকে সফল করতে আগে থেকেই প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন রিহার্সাল করেছেন। রিহার্সালে গান, নাচ, আবৃত্তি এবং অভিনয়ের প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। শিক্ষার্থীরা ঝলমলে রঙিন পোশাক পরে, দলবেঁধে স্কুলবাসে করে দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তাদের উচ্ছ্বাস এবং উদ্দীপনা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রমাণ করছে, তারা ধীরে ধীরে দুর্ঘটনার মানসিক প্রভাব কাটিয়ে উঠছে।
বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা এবং মঞ্চশিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধি করা। গান, নাচ, আবৃত্তি এবং অভিনয় মঞ্চে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দলগত পরিবেশনা প্রদর্শন করেছেন। শিক্ষকদের সহযোগিতা, প্রেরণা এবং দৃঢ় মনোবলও অনুষ্ঠানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
যদিও অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ছিল, কিছু অভিভাবক এখনও তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও, ছবি ও সংবাদ এখনো অনেকের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই উদ্বেগ মোকাবেলায় শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া, স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য ও পরামর্শ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার মানসিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে।
এটি শুধু একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার একটি সুযোগ। শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে শোকের মাঝে আনন্দ ও সৃজনশীলতাকে পুনরায় জীবন্ত করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াবে এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ খুলবে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে, বিপর্যয় পরবর্তী পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীলতায় আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব। দুর্ঘটনার ছায়া থাকলেও, শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরে আসছে, এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তাদের মানসিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে।
