অ্যাকাডেমি পুরস্কার বিজয়ী সুরকার এ.আর. রহমান তার নিজস্ব KM Musiq লেবেলের মাধ্যমে Rooh-e-Noor নামে একটি নতুন নারীদের ব্যান্ডের উদ্বোধন করেছেন, যা ভারতের আধুনিক সঙ্গীত দৃশ্যে একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করছে। খতিজা রহমান এবং প্রজেক্ট হেড কানিকা উরসের নেতৃত্বে গঠিত এই ব্যান্ডটি আধুনিক সুর এবং আধ্যাত্মিক পপের সংমিশ্রণ নিয়ে কাজ করছে, যা ভারতের সঙ্গীতাঙ্গনে নারীদের শিল্পকর্মের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছে।
Rooh-e-Noor ২১ নভেম্বর, শারজাহর তানওয়ার ফেস্টিভ্যালে তাদের বিশ্বপ্রিমিয়ার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে, যেখানে তারা এ.আর. রহমানের খ্যাতনামা সুফি গ্রুপের জন্য ওপেনিং পারফরম্যান্স করবে। ছয় সদস্যের ভোকাল লাইন-আপে রয়েছেন পূজা তিওয়ারি, সানা আজিজ, শাওনি, খতিজা রহমান, আমিনা রফিক, এবং শিফা রুবি। এই শিল্পীরা তাদের বিভিন্ন সঙ্গীত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে একত্রিত হয়েছেন, এবং বেশ কিছু সদস্য ভোকাল কোচ এবং সঙ্গীত সুপারভাইজর হিসেবেও কাজ করেন। সঙ্গীত প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন সানা আজিজ, সার্থক কাল্যাণী এবং নকুল অভ্যংকার।
Rooh-e-Noor নামটি “আলোর আত্মা” হিসেবে অনুবাদ করা যায়, যা নারী কণ্ঠস্বরের চিকিৎসামূলক এবং উন্নয়নশীল শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তাদের প্রথম পারফরম্যান্সে থাকবে একটি অদ্বিতীয় রেপারটোরি, যা ক্লাসিক, সিনেমাটিক সঙ্গীত এবং আধ্যাত্মিক গানের মিশ্রণ, এবং এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা গভীর আবেগপূর্ণ সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করবে।
এ.আর. রহমান ব্যান্ডটি সম্পর্কে বলেন, “Rooh-e-Noor শুধুমাত্র একটি ব্যান্ড নয়, এটি একটি আলো, যা হৃদয়কে সংযুক্ত করে। এই নারীদের প্রত্যেকেই আধুনিক শিল্পকলার আত্মবিশ্বাস বহন করেন। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর সচ্ছ, শক্তিশালী, শিকড়ে প্রোথিত এবং ভবিষ্যতমুখী।”
এই প্রজেক্টের মাধ্যমে, Rooh-e-Noor নারীদের জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তারা সঙ্গীত শিল্পে আরও দৃশ্যমানতা এবং সৃজনশীল সুযোগ পাবে। এ.আর. রহমান এবং তার টিম আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা এক নতুন প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন, যারা সঙ্গীতের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন এবং ঐক্য খুঁজে পাবে।
Rooh-e-Noor এর সৃষ্টি ভারতীয় সঙ্গীতের জন্য একটি পরিবর্তনশীল মুহূর্ত, যেখানে আধ্যাত্মিকতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তি একত্রিত হয়েছে। তারা যখন তাদের আন্তর্জাতিক আত্মপ্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই ব্যান্ডটি এ.আর. রহমানের স্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে: সঙ্গীত শুধুমাত্র শিল্প নয়, এটি একটি শক্তি যা সংযোগ, সচেতনতা এবং পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
