নাচ–গান–কবিতায় বর্ষবরণ আয়োজন করেছে গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ

বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়’ শিরোনামের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বাংলা বছরকে উৎসাহের সঙ্গে বরণ করেছে। অনুষ্ঠানটি ছিল নৃত্য, সংগীত, কবিতা ও পথনাটকের এক সম্পূর্ণ মিলনমেলা, যেখানে শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি ও গণসঙ্গীত আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অঙ্গ। নতুন বছরের শুরুতে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা তুলে ধরা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।” স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী, যিনি দর্শকদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে। আজকের অনুষ্ঠান সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।” অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঝর্ণা আলমগীর ও তারেক আলী।

বার্ষিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের বিশেষ স্থান ছিল। স্বরতরঙ্গ আবৃত্তি ভুবন, শিল্পবৃত্ত, সীমান্ত খেলাঘর আসর এবং মৈত্রী শিশুদল তাদের একক এবং দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষভাবে মৈত্রী থিয়েটার একটি সৃজনশীল পথনাটক উপস্থাপন করে, যা নতুন বছরের আগমনকে উদযাপনের সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার মিশ্রণ বহন করেছিল।

দলীয় সংগীতে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী এবং বহ্নিশিখা। তাদের পরিবেশনা ছিল গতিময়, আবেগঘন এবং প্রাচীন বাংলা সংগীতের সঙ্গে সমকালীন ছন্দের সুন্দর সমন্বয়। নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দন, ধৃতি নর্তনালয়, ঢাকা ড্যান্স অ্যান্ড আর্ট সেন্টার এবং গারো কালচারাল একাডেমি। এই নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং নৃত্যশৈলীর বৈচিত্র্য দর্শকদের সামনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক সংযোগের উদাহরণ, যেখানে শিশু ও কিশোরদের প্রতিভা, প্রথাগত ও আধুনিক সংগীত, কবিতা এবং নাটক সবকিছু একত্রে প্রকাশ পেয়েছে। এতে উপস্থিত দর্শকরা নতুন বছরের আগমন উদযাপন করতে পারছিলেন শুধুমাত্র আনন্দে নয়, বরং দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান ও আবেগের সঙ্গে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে যে গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ শুধুমাত্র সংগীত ও নৃত্যের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতাকে উদ্দীপ্ত করার এবং নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নতুন বছর উদযাপনের মাধ্যমে তারা দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করেছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক উজ্জ্বল দাগ হিসেবে রয়ে গেছে।