বছর ৬৭-এ তিন বিদেশি স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবন ও উপলব্ধি ভাগ করছেন লাকি আলি

ভারতের সুপরিচিত গায়ক লাকি আলি, যিনি এখন ৬৭ বছর বয়সী, তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল যথেষ্ট রঙিন। তিনটি ভিন্ন দেশের নারীর সঙ্গে তিনবার বিবাহ করেছেন তিনি। এই তিনটি সংসারে মিলিয়ে তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। তবে কোনো সংসারই স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে তিনি একা জীবনযাপন করছেন—তবুও অতীত সম্পর্কে কোনো অনুশোচনা নেই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লাকি নিজের ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “জীবনের প্রথম সঙ্গীকে শেষ সঙ্গী হতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। আমি তিনটি ভিন্ন দেশের নারীর সঙ্গে বিবাহ করেছি। আমার বাবাও ভারতের বাইরে একজন নারীর সঙ্গে বিবাহ করেছিলেন।”

বিবাহবিচ্ছেদের পরও তিনি প্রাক্তন স্ত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। লাকি আলি বলেন, “তিনবার বিয়ে করেও আমার কোনো সংসার টেকেনি, তবুও সম্পর্কগুলো আজও আছে। আমরা হয়তো একসাথে থাকি না, কিন্তু একে অপরের পাশে আমরা সব সময় আছি।”

লাকির প্রথম বিয়ে হয় ১৯৯৬ সালে নিউজিল্যান্ডের মডেল মেগান জেন ম্যাকক্লিয়ারির সঙ্গে। বিবাহের পর তার আইকনিক গান ও সানাম-এর মিউজিক ভিডিওতেও মেগানকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তাদের দুই সন্তান—তাউজ ও তাসমিয়া।

মেগানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর লাকি অনাহিতা নামের ইরানি বংশোদ্ভূত নারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রথম স্ত্রীর ডিভোর্সের পরই তাকে বিয়ে করেন। তাদেরও দুই সন্তান—সারা ও রায়ান।

২০১০ সালে তিনি তৃতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রাক্তন ব্রিটিশ মডেল কেট এলিজাবেথ হ্যালামের সঙ্গে। এ দম্পতির এক পুত্রসন্তান, দানি মাকসুদ আলি। তবে এই সম্পর্কও টেকেনি; ২০১৭ সালে কেটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং এরপর থেকে লাকি আলি আর বিয়ে করেননি।

তিনবারের বিবাহবিচ্ছেদের পরও লাকি আলি জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক কিছু না কিছু শেখায়। ভালোবাসা যদি সত্যিকারের হয়, সম্পর্ক শেষ হলেও তার বন্ধন কখনো পুরোপুরি ছিন্ন হয় না।”

সন্তানদের প্রতি তিনি দায়িত্বশীল। লাকি বলেন, “আমি সব সময়ই সন্তানদের দায়িত্ব নিই। আমি মনে করি, ভালোবাসা দিয়েই সন্তানদের বড় করা যায়। বাবা-মা যা করেন, সন্তানরাও তা শেখে।”

লাকির পারিবারিক জীবনও অনন্য। তার বাবা মেহমুদ ও মা মধু কুমারীর মধ্যে একসময় বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে মেহমুদ একজন আমেরিকান নারী ট্রেসির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। লাকির মা মধু কুমারী ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মীনা কুমারীর বোন।