ফেম মিউজিক: ভারতের প্রথম লেবেল যা শুধুমাত্র মহিলাদের সংগীতশিল্পীদের প্রচার করবে

ফেম মিউজিক: ভারতের নারী শিল্পীদের জন্য নতুন যুগের রেকর্ড লেবেল

ভারতের সংগীত জগতে নারী কণ্ঠস্বরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রেকর্ড লেবেল ফেম মিউজিক। এই উদ্যোগটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন সানোলি চৌধুরী, একজন বেঙ্গালুরু ভিত্তিক সংগীতশিল্পী, প্রযোজক ও অডিও ইঞ্জিনিয়ার, এবং লন্ডনভিত্তিক বিনোদ গাধের, যিনি সংগীত শিল্পে বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

ফেম মিউজিকের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সংগীত পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে নিজেরা তাদের গল্প বলতে পারবে, কপিরাইট ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে নিজের অধিকার বজায় রাখতে পারবে এবং টেকসই ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে, তা হোক দেশীয় না আন্তর্জাতিক।

নারী শিল্পীদের ক্ষমতায়ন

সানোলি চৌধুরী জানান, “ভারতের সংগীত শিল্পে যথাযথ ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অভাব রয়েছে এবং এখানে অনেকগুলো গেটকিপার আছে। ফেম মিউজিক শুধু শিল্পীদের ব্যবস্থাপনা বা বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে না, বরং কপিরাইট ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে। আমাদের লক্ষ্য একটি সমাজ তৈরি করা যেখানে আমরা একে অপরের সাথে জ্ঞান বিনিময় করি এবং নারীদের সংগীত থেকে জীবিকা উপার্জনের উপায় তৈরি করি।”

প্রেরণা ও প্রেক্ষাপট

ফেম মিউজিকের ধারণা এসেছে ১৯৯০-এর দশকের রায়ট গার্ল আন্দোলন থেকে। সানোলি এবং বিনোদ বুঝতে পেরেছিলেন যে, ভারতীয় নারী শিল্পীরা সংগীত শিল্পের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন নয় এবং তাদের পেশাদার সহায়তার প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকেই তারা গত বছরের এপ্রিল মাসে এনজিও “ইন্ডি গার্ল” শুরু করেন, যা ভারতীয় নারীদের জন্য একটি সহায়ক বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করে।

গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন

ফেম মিউজিকের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তারা AWAL (Artists Without A Label) এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। এর মাধ্যমে লেবেলটি বিশ্বব্যাপী নারীদের গান পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।

সংক্ষেপে: ফেম মিউজিকের লক্ষ্য

  • নারী কণ্ঠস্বরকে অগ্রাধিকার দেওয়া
  • শিল্পীদের স্বাধীন ন্যারেটিভ ও কপিরাইট অধিকার নিশ্চিত করা
  • টেকসই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করা
  • গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে শিল্পীদের পৌঁছানো

ফেম মিউজিক একটি নতুন যুগের সূচনা, যেখানে ভারতের নারী শিল্পীরা স্বাধীনভাবে এবং শক্তিশালীভাবে তাদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারবে, এবং দেশের সংগীত জগতে স্থায়ী পদচিহ্ন রেখে যেতে পারবে।