সলিল চৌধুরীর গানেই ফুটে উঠেছে মানবমুক্তির স্লোগান

শহীদ মিনারে আবারও ফিরে এসেছে কিংবদন্তি গণসংগীতকার সলিল চৌধুরীর আত্মার সঙ্গীতধারা। ‘গণসংগীত মানুষের রক্তে আগুন জ্বেলে দিয়েছে, উজ্জীবিত করেছে, মুক্তির পথ দেখিয়েছে’—এই বার্তাই প্রতিধ্বনিত হলো বুধবার সন্ধ্যায় উদীচীর আয়োজনকৃত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সতত সলিল’-এ। শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল গান, আলোচনা, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে একটি স্মরণ ও চেতনার পুনর্জাগরণ। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও গবেষক সায়েম রানা এবং উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার।

আলোচকরা বলেছেন, সলিল চৌধুরী জাতির ঐতিহাসিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ধারার অংশ ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার প্রতিটি সংগ্রামে তাঁর গান মানুষকে প্রেরণা দিয়েছে। কবিতা, মিছিলের স্লোগান এবং গণসংগীতকে একত্রিত করে তিনি একটি নতুন সুর ও বাণী সৃষ্টি করেছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘যে গানগুলো মানুষের মুক্তির বার্তা বহন করে, তা সবসময় শাসকশ্রেণীর পছন্দের নয়, তবু এগুলো প্রতিটি সংগ্রামে আমাদের শক্তি ও সাহস জোগায়।’

আলোচনার পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষ্য হয়। উদীচী সংগীত বিভাগ ও কোরাস বৃন্দগান পরিবেশন করে, তানভীর আলম সজীব এবং মনসুর আহমেদ একক গান করেন। নৃত্য পরিবেশনা করে স্পন্দন ও আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতি। আবৃত্তিতে অংশ নেন উদীচী আবৃত্তি বিভাগ; একক আবৃত্তি করেন শাহেদ নেওয়াজ।

১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গাজীপুরে জন্ম নেওয়া সলিল চৌধুরী মাত্র ২২ বছর বয়সে রচনা করেন অমর গান ‘গাঁয়ের বধূ’। তাঁর সংগীতশৈলী পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সুর থেকে অসমিয়া লোকগান পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ‘দো বিঘা জমিন’-এর সংগীত পরিচালনা থেকে শুরু করে ১৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি সংগীত পরিচালনা করেছেন। আজ তাঁর শতবর্ষে শহীদ মিনার যেন ভেসে উঠেছে মানবমুক্তির চিরন্তন সুরে।