“পেপার ইয়া পেয়ার”-এর গায়ক হারমান সিধু চলে গেলেন ৩৭ বছরে!

গতকাল, শনিবার, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জনপ্রিয় গায়ক হারমান সিধু অকাল প্রয়াণ করেছেন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি জীবন হারান। ঘটনাস্থল ছিল পাঞ্জাবের পাতিয়ালা থেকে মানসা ফেরার পথে। গায়ক হারমান সিধুর গাড়ির সঙ্গে একটি ভারী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যার তীব্রতায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছার পর তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

দুর্ঘটনার পর তাঁর শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, হারমান সিধু তাঁর ছোট মেয়েকে একটি ফুল উপহার দিচ্ছেন। মেয়েটি বেগুনি রঙের পোশাক পরে হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছিল। ভিডিওটি ভক্তদের মধ্যে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং পরিবারকে গভীর দুঃখের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

হারমান সিধুর সংগীত জীবন

হারমান সিধু পাঞ্জাবি সংগীত জগতে একজন সুপরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন ‘পেপার ইয়া পেয়ার’ গান দিয়ে, যা আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এর পাশাপাশি তাঁর আরও কিছু উল্লেখযোগ্য গান রয়েছে, যা শ্রোতাদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

নিচের টেবিলে হারমান সিধুর কিছু জনপ্রিয় গান এবং প্রকাশের বছর সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ

গানটির নামপ্রকাশের বছরমন্তব্য
পেপার ইয়া পেয়ার২০১১ক্যারিয়ারের শুরু এবং জনপ্রিয় গান
কোই চক্কর নাই২০১৩গানটির লিরিক এবং সুর ছিল চিত্তাকর্ষক
বেবে বাপু২০১৫সামাজিক বার্তা ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে
বাব্বর শের২০১৭শক্তিশালী ভোকাল এবং সঙ্গীত সমালোচকদের প্রশংসা
মুলতান ভার্সেস রাশিয়া২০১৯আন্তর্জাতিক ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়

দুর্ঘটনার পর হারমান সিধুর গাড়ির বিধ্বস্ত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে শোকাহত এবং তাদের পাশে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবরা রয়েছে।

হারমান সিধুর অকাল মৃত্যু পাঞ্জাবি সংগীত জগতে একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তাঁর সুর ও গানগুলো যা ভক্তদের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে, তা চিরকাল স্মৃতির অংশ হিসেবে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর অবদানকে স্মরণ করছেন।

হারমান সিধুর জীবন ও সংগীত আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি সুর মানুষের হৃদয়ে অনিরোধ্য প্রভাব রাখতে পারে। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য একটি দুঃখজনক ক্ষতি হলেও, তাঁর গানগুলো চিরকাল হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।