আবুল সরকারসহ সব বাউলের মুক্তি দাবি ২৫৮ নাগরিকের বিবৃতি

মানিকগঞ্জে বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও তাঁর অনুগতদের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদের ক্রমবর্ধমান দাপটের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন—এমন মত প্রকাশ করেছেন দেশের ২৫৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের বিবৃতি শুধু একটি গ্রেপ্তার বা একটি হামলার নিন্দা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর গভীর হুমকির বিশ্লেষণ।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের স্বপ্ন জনগণ দেখেছিল, বাস্তবে তার বিপরীত প্রবণতা স্পষ্ট। উগ্রবাদী শক্তিগুলো এখন সমাজজুড়ে ভয়—ভীতি সৃষ্টি করে ‘ধর্মরক্ষার’ নামে একধরনের সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দুই শতাধিক মাজার ভাঙা, বাউল–ফকিরদের জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া, কবর থেকে লাশ তোলা, নারীদের ওপর সামাজিক চাপ তৈরি, সাংস্কৃতিক আয়োজন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা—এসব ঘটনাকে নাগরিকেরা একটি পরিকল্পিত ‘সামাজিক প্রকৌশল’ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন, যার উদ্দেশ্য ভিন্নমত ও ভিন্ন জীবনচর্চাকে নির্মূল করা।

তারা বিচার করেন, এই উগ্রতা টিকে থাকার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় নীরবতা। আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতো, তাহলে সহিংসতা এই মাত্রায় পৌঁছাতো না। বরং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া বা ঘটনাকে ‘চাপের গ্রুপ’ বলে হালকা করে দেখানোর প্রবণতা উগ্রবাদীদের উৎসাহ জুগিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয় যে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি সম্ভাব্য ধর্মীয় উগ্র রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে—যা অর্থনীতি, কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

এই পরিস্থিতিতে ২৫৮ নাগরিক আবুল সরকারসহ সব বাউল–ফকির এবং হামলার শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী ধারা রক্ষার জন্য এ মুহূর্তেই কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।