বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে সোলস একটি কিংবদন্তি নাম। সেই ব্যান্ডের দীর্ঘদিনের ভোকালিস্ট পার্থ বড়ুয়া সম্প্রতি জানিয়েছেন, ব্যান্ডে থাকা অবস্থায় কোনো সদস্যের একক বা সলো গান করা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, এটি ব্যান্ডের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করে, জনপ্রিয়তার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যান্ডের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলে দিতে পারে।
নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ড সংগীত নিয়ে সাজানো একটি বিশেষ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যান্ড পরিচালনা, রেকর্ডিং, স্টুডিও কালচার, শিল্পীদের সম্পর্ক ও সলো ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। পার্থ মনে করেন, ব্যান্ডের প্রতিটি সদস্যই সমানভাবে গান তৈরিতে শ্রম দেন, কিন্তু কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ফ্রন্টলাইনারকে মানুষ বেশি চিনে, ফলে তিনিই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। খ্যাতির এই বাড়তি সুবিধা অনেক সময় শিল্পীদের সলো ক্যারিয়ার বা মিক্সড অ্যালবামে গান করার দিকে টেনে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যান্ডের ক্ষতি করে।
তিনি বলেন, “ব্যান্ডে চার-পাঁচজন থাকুক, সবারই সমান এফোর্ট থাকে। কিন্তু মানুষ তো কণ্ঠটাই আগে শোনে। ফলে গায়ক দ্রুত জনপ্রিয় হয়। এই খ্যাতির লোভটাই ভয়ংকর। সে যদি ব্যান্ডের বাইরে গিয়ে আলাদা ক্যারিয়ার বানাতে চায়, তাহলে ব্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবেই—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
অতীতে পার্থ নিজেও মিক্সড অ্যালবামে গান করেছেন। তবে সেটি ছিল মূলত অতিরিক্ত আয় করার জন্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সোলসের সদস্য থাকার সময় তিনি কখনোই সলো অ্যালবাম করেননি, যদিও তখন তাঁর হাতে ছিল বেশ লোভনীয় অফার। তাঁর বিশ্বাস, ব্যান্ড থেকেই তিনি পরিচিতি পেয়েছেন, তাই ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যান্ডের প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলে যাওয়াটা তিনি কখনোই চাননি।
বর্তমান সংগীত ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কমে যাওয়ায় শিল্পীরা বাধ্য হয়ে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করছেন। কিন্তু প্রযোজকদের অদ্ভুত সব চাহিদা এবং সৃজনশীলতায় হস্তক্ষেপের কারণে অনেক শিল্পী স্বাধীনভাবে কাজ করাকেই এখন নিরাপদ মনে করছেন। তিনি বলেন, “নতুন শিল্পীকে যদি বলা হয়—এই গানের মতো করো, ওভাবে করো—তাহলে নতুনত্ব কোথা থেকে আসবে? তাই সবাই এখন নিজের মতো করেই গান আপলোড করছে।”
সবশেষে পার্থ বড়ুয়ার মতে, সংগীত অঙ্গনে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে শিল্পী, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সচেতনতা, পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা জরুরি।
