আজ বাপ্পি লাহিড়ীর জন্মদিন, যা জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যও একটি বিশেষ দিন। বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে তার একটি অদ্ভুত যোগ ছিল, যা তিনি এখনো অনুভব করেন। ছোটবেলা থেকে বাপ্পির গান শুনে অনেক কিছু শিখেছেন জিৎ। তিনি বলেন, “বাপ্পিদা আমাকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাঁর গান শুনে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তিনি আমার গানের অনুভূতি ফোন করে শেয়ার করতেন। ‘মুসকুরানে কি ওয়াজা’ গানটি বাপ্পিদার খুব পছন্দ ছিল, বিশেষ করে অন্তরার অংশটি।”
জিৎ আরও বলেন, “একজন সুরকারের কতটা পরিধি থাকতে পারে, ভাবতে পারি না! এক দিকে নাচের গান, আর এক দিকে সুরেলা গান— কত রকমের গান বেঁধেছেন তিনি! ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘ডান্স ডান্স’, ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’, এবং ‘তখন তোমার একুশ বছর’-এর মতো গানগুলি ভাবাই যায়?”
বাপ্পিদার সবচেয়ে জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিৎ জানান, “পরে আমি এই নামের ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পাই। আমি বাপ্পিদাকে ফোন করে বলেছিলাম, ‘দাদা, তুমি আমাকে আশীর্বাদ কোরো এবং সাহস দিয়ো।’ বাপ্পিদা শুধু বলেছিলেন, ‘তুমি মন দিয়ে কাজটা করো।’ তাঁর এই পরামর্শই আমার জন্য অনেক ছিল।”
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির গান ‘বাতাসে গুনগুন’ এবং ‘ঝিরিঝিরি’ বাপ্পিদার খুব ভালো লেগেছিল বলে জিৎ জানান। বাপ্পির স্ত্রী চিত্রাণী লাহিড়ীও ফোন করে গান দুটি পছন্দ হওয়ার কথা বলেছিলেন। “আমরা এক পরিবারের মতো ছিলাম। বাপ্পিদা ও তাঁর পরিবার আমাদের খুব ভালোবাসতেন, আমরা একসাথে অনেক সময় কাটিয়েছি।”
জিৎ বলেন, “সম্প্রতি ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠানে বাপ্পিদাকে উৎসর্গ করে একটি পর্ব হয়েছিল। আমি বৌদিকে ফোন করলাম, এবং সত্যিই চোখে জল এসে যায় এখনও।”
বাপ্পিদার সঙ্গীতজীবন নিয়ে জিৎ বলেন, “বাপ্পিদা আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। অর্কেস্ট্রা ও ডিস্কো সাউন্ড যে ভাবে তিনি উপস্থাপন করেছেন, তা আমাদের কাছে নতুন করে এসেছিল। তাঁর সুরে ‘ইয়াদ আ রহা হ্যায়’ আর ‘আজি এ প্রভাতে’ ছিল এক নতুন গুণ।”
জিৎ আরও যোগ করেন, “বাপ্পিদা শুধু সুরকারই ছিলেন না, তিনি তালবাদ্যেও অসাধারণ ছিলেন। খুব সুন্দর তবলা বাজাতেন। তাঁর তালজ্ঞান ছিল অসীম, যা সঙ্গীতের সৃষ্টিতে সাহায্য করত। তাঁর কণ্ঠও অতুলনীয় ছিল, যা সঙ্গীতের আবহ পরিবর্তন করে দিত।”
সঙ্গীতের পাশাপাশি, জিৎ বাপ্পিদার ব্যক্তিগত জীবন ও মনোভাবেরও প্রশংসা করেন। “বাপ্পিদা সত্যিই একজন ভালো মানুষ ছিলেন, খুব আপন করে নিতে জানতেন। মুম্বইয়ে থেকেও তিনি পুরোপুরি বাঙালি ছিলেন। বাড়িতে বাঙালি খাবার বানানো হতো, এবং খাদ্যরসিক ছিলেন। মাছের ঝোল তার পছন্দের ছিল।”
জিৎ বলেন, “এটি আমাদের থেকে পাওয়া একটি শিক্ষা। মুম্বইয়ের বাড়িতেও রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যেত এবং প্রচুর বই ছিল। খাবারের তালিকায় আলু পোস্ত, মাছের ঝোল থাকবেই।”
