শে গিল ও ‘পাসুরি’: খ্যাতি, স্বপ্ন এবং অজানা জীবনকথা

কোক স্টুডিও পাকিস্তানে ‘পাসুরি’ গানটি গেয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন তরুণ সংগীতশিল্পী শে গিল। গানটি ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং এখনও পর্যন্ত ইউটিউবে প্রায় ৯৩ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। এটি কোক স্টুডিও পাকিস্তানের ইতিহাসে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা গান হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি অভিনেত্রী দানানির ‘গার্লস অনলি’ শোতে হাজির হয়ে শে গিল তাঁর সাফল্যের গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, কোক স্টুডিও পাকিস্তানে কাজের মাধ্যমে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে এখনও অবিশ্বাস্য। সেই সঙ্গে তিনি শোতে দর্শকদের প্রত্যাশা এবং সমালোচনার চাপ নিয়েও কথা বলেছেন।

শে গিলের আসল নাম অনুশে গিল। তিনি জানিয়েছেন, ‘অনুশে’ একটি ফার্সি শব্দ, যার অর্থ “অমর”। বন্ধুরা তাঁকে এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘শে’ বলে ডাকত। শে গিল আরও জানিয়েছেন, ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের শে নামের চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর চেহারার মিল আছে। সেই চরিত্রের কারণে বন্ধুরা তাঁকে ‘শে’ বলে ডাকতে শুরু করে। পরে বন্ধু ঈমানের পরামর্শে তিনি “শে গিল” নামটি গ্রহণ করেন।

শৈশবে শে গিলের স্বপ্ন ছিল একজন অর্থনীতিবিদ হওয়ার। তিনি বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি অর্থনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবতেন। সংগীতের প্রতি তখন তেমন আগ্রহ ছিল না। স্কুলের স্টেজে গান গেয়েছেন, কিন্তু তা কখনো সিরিয়াসলি নেননি। বন্ধুর উৎসাহে তিনি গানের জগতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন গান কাভার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে থাকেন। শে গিল জানিয়েছেন, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ডও বন্ধু ঈমানের কাছে ছিল। তাই সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর কৃতিত্বের বড় অংশ তিনি বন্ধুর অবদানের সঙ্গে যুক্ত করেন।

শে গিলের বয়স মাত্র ২৫ বছর। এত কম বয়সে ‘পাসুরি’ গান দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। জনপ্রিয়তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ আপনাকে চেনে, তত বেশি সমালোচনা এবং ঘৃণাও আসে। মানুষ তাঁকে প্রশংসা করছে, তবে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখেও পড়তে হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু মন্তব্যে রাগ হলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং গঠনমূলক সমালোচনায় আপত্তি নেই।

শে গিলের জীবন ও সাফল্যের গল্প তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে নতুন সঙ্গীত প্রকাশের মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করছেন এবং পাকিস্তানি সংগীতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরছেন। তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে, বন্ধুত্ব, প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রম মিলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।