ভয়াবহ হামলার পর বন্দুক আইনে সংস্কার চান বিলি আইলিশ

যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় একের পর এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার প্রেক্ষাপটে কঠোর অস্ত্রনিয়ন্ত্রণের পক্ষে আবারও সরব হয়েছেন জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী বিলি আইলিশ। ‘ধ্বংসাত্মক’ এসব সহিংস ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি মানুষকে সোচ্চার হওয়ার এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় বিলি আইলিশ লেখেন, “আজ স্যান্ডি হুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভয়াবহ গণহত্যার বার্ষিকী। ঠিক একই দিনে আমরা অস্ট্রেলিয়া, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি এবং ব্রুকলিনে নতুন করে গণগুলির খবর নিয়ে ঘুম থেকে উঠেছি।” এই ঘটনাগুলোকে তিনি ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেন।

নয়বার গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী আরও লেখেন, “এটা সত্যিই বিধ্বংসী। নিহত ও আহত সবার পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে।” একই সঙ্গে তিনি তাঁর অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজের কণ্ঠ তুলুন, পরিবর্তনের জন্য কাজ করুন এবং যারা বন্দুক আইন সংস্কারে আগ্রহী নয়—তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিন।”

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে এক বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনই ছিল মাত্র ৬–৭ বছর বয়সী শিশু। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ঠিক ১৩ বছর পূর্তির দিনেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যায় আরও কয়েকটি সহিংস হামলা।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত তিনটি ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে একটি হনুক্কা উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গুলিবর্ষণে ছয় কিশোর আহত হয়। একই সময়ে রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এক হামলায় দুজন নিহত ও অন্তত নয়জন আহত হন; ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে খুঁজতে তখনও অভিযান চলছিল।

বিলি আইলিশ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। ২০২৩ সালে তিনি ‘দ্য আর্টিস্টস ফর অ্যাকশন টু প্রিভেন্ট গান ভায়োলেন্স’ জোটে যোগ দেন। এই জোটে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শেরিল ক্রো, পিটার গ্যাব্রিয়েল, রুফাস ওয়াইনরাইটসহ আরও অনেক খ্যাতনামা শিল্পী। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলে সহিংসতা কমানো এবং আইন সংস্কারের দাবি জোরালো করা।

পরিসংখ্যান বলছে, সমস্যা কতটা ভয়াবহ। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩৯২টি গণগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—কবে আসবে কার্যকর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ?

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

বিষয়তথ্য
স্যান্ডি হুক হামলা১৪ ডিসেম্বর ২০১২
নিহত২৬ জন (২০ জন শিশু)
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গণগুলি৩৯২টি
সাম্প্রতিক বন্ডাই বিচ হামলায় নিহতঅন্তত ১৫ জন
ব্রুকলিন ঘটনায় আহত৬ কিশোর

বিলি আইলিশের বার্তা স্পষ্ট—শোক প্রকাশের পাশাপাশি এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। তাঁর ভাষায়, কণ্ঠ তোলা, সচেতন হওয়া এবং ভোটের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির আওতায় আনা ছাড়া এই সহিংসতার চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।