ইটের আঘাতে রণক্ষেত্র জিলা স্কুল: ফরিদপুরে জেমসের কনসার্ট পণ্ড

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের আনন্দঘন সমাপনী রাত এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। বহিরাগতদের নজিরবিহীন তণ্ডব ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের কনসার্ট। শুক্রবার রাতে জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের হামলায় পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়কসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উৎসবের আমেজ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয় এবং কয়েক হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মিলনমেলা মলিন হয়ে যায়।

মূলত জিলা স্কুলের এই আয়োজনটি ছিল শুধুমাত্র নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে জেমসের সংগীত পরিবেশনার খবর জানাজানি হলে ফরিদপুর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ২০-২৫ হাজার অনিবন্ধিত মানুষ জিলা স্কুলের সামনে ভিড় জমান। স্কুলের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে মূল ফটক বন্ধ রাখলে বাইরে অপেক্ষমাণ জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাইরে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখার ব্যবস্থা করা হলেও তারা জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বহিরাগতরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে তাদের সংঘাত শুরু হয়। এরপরই তারা চারপাশ থেকে মঞ্চ ও দর্শকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

নিচে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ওই রাতের ঘটনার বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হলো:

ফরিদপুর জিলা স্কুল কনসার্ট দুর্ঘটনার একনজরে পরিসংখ্যান

বিষয়বস্তুবিস্তারিত তথ্যফলাফল/প্রভাব
আয়োজনের উপলক্ষ১৮৫তম বর্ষ উদ্‌যাপন ও পুনর্মিলনীসমাপনী সাংস্কৃতিক রজনী।
আহতের সংখ্যা২৫ থেকে ৩০ জনআহ্বায়কসহ অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বহিরাগতদের সংখ্যাআনুমানিক ২০,০০০ – ২৫,০০০ জনজিলা স্কুলের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড়।
ঘটনার সময়কালরাত ৯:৩০ থেকে ১০:০০ পর্যন্তজেমস মঞ্চে ওঠার অল্প সময়ের মধ্যে তাণ্ডব।
গৃহীত ব্যবস্থারাত ১০টায় অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাজানমালের নিরাপত্তায় কনসার্ট বাতিল।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণমঞ্চ, চেয়ার ও প্রজেক্টর ক্ষতিগ্রস্তউৎসবের সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট।

ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম। ইটের আঘাতে সাধারণ দর্শক ও অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রাত ১০টার একটু আগে নিরাপত্তা উপ-পরিষদের সদস্য বেনজীর আহমেদ তাবরীজ মাইকে অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন। এতে জেমসের গান শোনার অপেক্ষায় থাকা কয়েক হাজার শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেমসকে দেখার জন্য মানুষের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে তা সামলানো পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। জিলা স্কুল প্রাঙ্গণের নির্দিষ্ট সীমানায় এত মানুষের সংকুলান সম্ভব ছিল না। বহিরাগতরা ভেতরে ঢুকতে না পেরে ক্ষোভ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত পুরো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বাতিল করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্কুল প্রাঙ্গণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।