পথকুকুরদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী তীব্র বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক মিকা সিং পথকুকুরদের পাশে দাঁড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, মিকা সিং নিজে ১০ একর জমি দান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে পথকুকুরদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মীদের নিয়োগ করা হবে এবং নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া আবেদনে মিকা উল্লেখ করেছেন, তার কাছে প্রয়োজনীয় জমি রয়েছে এবং সেই জমিতেই কুকুরদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করতে চান। তবে জমি থাকা সত্ত্বেও, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ ও আন্তরিক কর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, যারা দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার সঙ্গে কুকুরদের যত্ন নেবেন, তাদের সাহায্য আশ্রয়কেন্দ্র সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ।
পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর। আদালত স্কুল, রেলস্টেশন, হাসপাতালসহ জনসাধারণের ব্যবহৃত বিভিন্ন এলাকা থেকে পথকুকুর সরানোর সিদ্ধান্ত দেয়। সেই সঙ্গে জানানো হয়, নির্বীজকরণের পর কুকুরদের পুনঃস্থাপন করা যাবে না এবং তাদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা বাধ্যতামূলক।
এই নির্দেশের ফলে দেশজুড়ে পশুপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদমূলক আয়োজন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হলেও শীর্ষ আদালত আগের অবস্থানই বহাল রাখে, যা পশুপ্রেমীদের অসন্তোষ আরও তীব্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে মিকা সিংয়ের ১০ একর জমি দানের প্রস্তাব একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে মিকা সিংয়ের উদ্যোগের মূল দিক ও প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত | প্রভাব / লক্ষ্য |
|---|---|---|
| জমি ও প্রকল্প | ১০ একর জমি দান, পূর্ণাঙ্গ আশ্রয়কেন্দ্র | পথকুকুরদের নিরাপদ আশ্রয় ও জীবনমান উন্নয়ন |
| পরিচালনা | অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মী নিয়োগ | নিয়মিত দেখভাল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত |
| আদালতের প্রেক্ষাপট | সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা, জনবহুল এলাকা থেকে সরানো | সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের গুরুত্ব বৃদ্ধি |
| সমাজিক প্রভাব | পশুপ্রেমীদের সমর্থন ও সচেতনতা | জনসাধারণের মধ্যে পশু কল্যাণে সচেতনতা বৃদ্ধি |
| চ্যালেঞ্জ | দক্ষ কর্মী ও সম্পদের প্রয়োজন | কার্যকর পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব |
সংক্ষেপে, মিকা সিংয়ের এই উদ্যোগ পথকুকুরদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এটি শুধুমাত্র পশুপ্রেমীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করেনি, বরং সমাজের সকল স্তরে পশু কল্যাণ ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
