পরীমনিকে ‘থামতে’ বললেন আসিফ, শাকিবকে দিলেন বিশেষ বার্তা

বাংলা সংগীত জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আসিফ আকবর বরাবরই তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত। রাখঢাক না করে সরাসরি সত্য কথা বলার সাহসিকতা তাকে যেমন প্রশংসিত করেছে, তেমনি মাঝে মাঝে বিতর্কের মুখেও ফেলেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশগ্রহণ করে আসিফ ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ বেশ কয়েকজন তারকাকে নিয়ে নিজের মনের কিছু গভীর প্রশ্ন ও কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি, মেগাস্টার শাকিব খান এবং রকস্টার জেমস।

পরীমনির প্রতি বন্ধুসুলভ পরামর্শ ও প্রশ্ন

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে নিয়ে আসিফ আকবরের পর্যবেক্ষণ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আসিফ মনে করেন, পরীমনির জীবনধারা কিছুটা খামখেয়ালিপনায় পূর্ণ এবং এটি মাঝেমধ্যে দর্শকদেরও বিভ্রান্ত করে। অনুষ্ঠানে আসিফ বলেন, “আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই—তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, এবার অন্তত থিতু (সেটেল ডাউন) হও। কীভাবে সেটা সম্ভব হবে, সেই পরিকল্পনাও আমাকে বলো।”

আসিফ জানান, ব্যক্তিগতভাবেও তিনি পরীমনিকে এই পরামর্শ দিয়েছেন। তবে পরীমনির একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, পরীমনি সবসময় হাসিখুশি থাকে এবং যেকোনো বিষয়কে খুব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

শাকিব খানের প্লেব্যাক নিয়ে কারিগরি প্রশ্ন

ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, তার ছবির গানের ‘কণ্ঠ’ নিয়ে আসিফ বেশ শক্ত মন্তব্য করেছেন। আসিফ লক্ষ্য করেছেন যে, শাকিব খান যখন পর্দায় সংলাপ দেন, তখন তার কণ্ঠস্বর গম্ভীর ও পৌরুষদীপ্ত শোনায়। কিন্তু গানের দৃশ্যে যখন তিনি অন্যের কণ্ঠে ঠোঁট মেলান, তখন সেই কণ্ঠস্বর অনেক সময় চিকন বা অবাস্তব মনে হয়।

আসিফ আক্ষেপ করে বলেন, “আগে শাকিব খানের গানে এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু বা সৈয়দ আবদুল হাদীর মতো কিংবদন্তিরা কণ্ঠ দিতেন, যা চরিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানের কণ্ঠগুলো তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঠিক যাচ্ছে না।” প্লেব্যাকের ব্যাকরণ মেনে গানের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি শাকিবকে আহ্বান জানান।

আসিফ আকবরের উত্থাপিত মূল বিষয়গুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারকার নামআসিফ আকবরের মূল প্রশ্ন/মন্তব্যআলোচনার প্রেক্ষাপট
পরীমনিজীবনে স্থিতিশীল হওয়া এবং খামখেয়ালিপনা কমানো।ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার।
শাকিব খানসংলাপে গম্ভীর কণ্ঠ থাকলেও গানে কণ্ঠ কেন চিকন হয়?প্লেব্যাকের গুণগত মান ও সামঞ্জস্য।
জেমসজাতীয় সংকটে কেন কোনো জোরালো বক্তব্য দেন না?শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা।

জেমসের নীরবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

দেশের ব্যান্ড সংগীতের প্রবাদপুরুষ জেমসকে নিয়েও নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আসিফ। তিনি মনে করেন, জেমস একজন মহাতারকা হওয়া সত্ত্বেও দেশের নানা সংকটময় মুহূর্তে কিংবা শিল্পীদের কোনো যৌক্তিক আন্দোলনে তাকে দেখা যায় না। জেমস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও কেন দেশের মানুষের প্রয়োজনে মুখ খোলেন না—আসিফ সরাসরি জেমসের কাছ থেকে এই নীরবতার কারণ জানতে চান।

পরিশেষে বলা যায়, আসিফ আকবরের এই মন্তব্যগুলো শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই সাহসী ও গঠনমূলক সমালোচনা অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক বলে মনে করছেন সাধারণ দর্শকরা। শিল্পীদের পারস্পরিক এই মতবিনিময় বিনোদন জগতকে আরও সচল ও সচেতন করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।