জন বব উইয়ারের অকাল মৃত্যুতে সারা বিশ্বের ভক্ত ও সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ১৭ জানুয়ারি সান ফ্রান্সিসকোর সিভিক সেন্টার প্লাজায় অনুষ্ঠিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে উইয়ারের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল জন মেয়ারের পরিবেশনা, যেখানে তিনি ১৯৭০ সালের ক্লাসিক গান ‘Ripple’ গেয়ে বন্ধুর স্মৃতিকে জীবন্ত করেছিলেন।
বব উইয়ার, কিংবদন্তি ব্যান্ড গ্রেটফুল ডেডের রিদম গিটারিস্ট, দীর্ঘদিনের ক্যান্সার ও ভাষাগত সমস্যার পর ১০ জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয়েছে, “তিনি শান্তিপূর্ণভাবে প্রিয়জনদের ঘিরে জীবন সমাপ্ত করেছেন। যেমন তিনি সাহসীভাবে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়েছেন, জীবনও তেমনি সমাপ্ত হলো।”
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিকি হার্ট, জোয়ান বেজ এবং জন মেয়ারসহ বহু শিল্পী। জন মেয়ার আবেগঘন ভাষণে বলেন, “আমরা একে অপরের প্রতি দশকের পর দশক বিশ্বাস গড়ে তুলেছি। বব আমাকে মুহূর্তের প্রতি বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। তার গানপুস্তিকা, সৃষ্ট জগতে আমন্ত্রণ এবং গানগুলোর অন্তর্নিহিত শিক্ষা আজও আমার হৃদয়ে জীবন্ত।”
বব উইয়ারের শেষ প্রকাশ্য পরিবেশনা হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে গোল্ডেন গেট পার্কে, যেখানে তিন রাতব্যাপী ডেড & কোম্পানি শো-তে শেষ গান ‘Touch of Grey’ পরিবেশিত হয়। এই গান জীবনের সুখ ও দুঃখের ভারসাম্যকে প্রতিফলিত করে। তার প্রতি ভক্তদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং টাই-ডাই রঙে আলোকিত করা হয়। ববের সৃষ্টিশীলতা আধুনিক রক এবং বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
নিচের টেবিলে বব উইয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণ ও কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা/স্মৃতিচারণ | স্থান | মূল ব্যক্তিত্ব/শিল্পী |
|---|---|---|---|
| ১০ জানুয়ারি | মৃত্যু | – | বব উইয়ার |
| ১৭ জানুয়ারি | শ্রদ্ধাঞ্জলি | সিভিক সেন্টার প্লাজা | জন মেয়ার, মিকি হার্ট, জোয়ান বেজ |
| আগস্ট ২০২৫ | শেষ প্রকাশ্য শো | গোল্ডেন গেট পার্ক | ডেড & কোম্পানি |
| ২০২৬ | নোস্টালজিক অভিব্যক্তি | নিউ ইয়র্ক | এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং আলোকিত |
জন মেয়ারের আবেগঘন পরিবেশনায় শুধু একজন বন্ধুকে স্মরণ করা হয়নি, বরং পুরো এক জীবনের সঙ্গীত, বন্ধুত্ব এবং শিল্পী হিসেবে ববের প্রভাবকেও অনুভব করা গেছে। মেয়ারের কথায়, “আমরা একসঙ্গে শুনব, ৩০০ বছরও হোক, বব, আমি তোমাকে চিরকাল ভালোবাসব।”
বব উইয়ারের জীবন ও সঙ্গীত আজও ভক্তদের মনে জীবন্ত; তার সৃষ্টিশীলতা, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এবং শিল্পী হিসেবে তার প্রভাব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
