নাহিদের গানের প্রেমে তরুণ সমাজ

ঢাকার ব্যস্ত শহরের কোলাহলে ফোনে নাহিদ হাসান বললেন, “না ভাই, অফিসের একটি মিটিং ছিল। এখন ফিরেছি।” যদিও গান করতেই তিনি ঢাকায় এসেছেন, বাস্তবতা সেই সহজ নয়। চাকরি করতে হয়, জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তবে সব বাধা অতিক্রম করে তিনি নিজের গান দিয়ে তরুণ শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। তার গল্পে আছে সাফল্যের আনন্দের সঙ্গে হতাশা, সংগ্রাম আর ব্যথা—যেমনটা তার গানের প্রতিটি নোটে পাওয়া যায়।

গানের শুরু:
ঠাকুরগাঁও জেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন নাহিদ। পরিবারের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে গান করার দায়িত্ব নাহিদের। বড় চাচা ও ভাই-বোনেরা যাত্রাপালা ও গান চালিয়ে আসলেও নাহিদ সেই পরিবেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। বগুড়ার কলেজে পড়াশোনা শুরু করলে বন্ধুমহলে নিয়মিত লেখা ও গান করা আরও পোক্ত হয়। কলেজ শেষ হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য ঢাকায় আসতেই হবে।

সংগ্রাম ও হতাশা:
২০১৪ সালে ঢাকায় আসেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলাকালীন কাজ করতেন একটি মোবাইল দোকানে। প্রথম মিক্সড অ্যালবামের জন্য নিজের সঞ্চয় ও ধার করা প্রায় ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও অ্যালবাম প্রকাশের আগেই প্রযোজকের মৃত্যু তার স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। সেই অপ্রকাশিত গানটির নাম ‘কেন এমন হলো’—এটি তার জীবনের এক ব্যথাপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

নতুন সূচনা:
অপ্রকাশিত হতাশার পর নাহিদ ঠিক করেন, নিজের সৃজনশীলতা ও সময়কে গুরুত্ব দেবেন। পরবর্তী তিন বছরে ১৬–১৭টি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন। ২০১৭ সালে বনানী সুপারমার্কেটে সংগীতশিল্পী অটমনাল মুনের সঙ্গে দেখা হয়ে তার ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হয়। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, দৈনন্দিন হেঁটে চলা, ভাড়া খরচ, সস্তা খাবার—সব কিছু ছাপ রেখেছে তার গানের অনুষঙ্গ হিসেবে।

প্রিয় ও আলোচিত গান:

গানপ্রকাশের বছরবৈশিষ্ট্য
তোমার পিছু ছাড়ব না২০১৯সংগ্রাম ও প্রেমের ব্যথা
ঘৃণা থাকুক২০২০সমাজের অভ্যন্তরীণ সংকট
বাবার সাইকেল২০২১পারিবারিক স্মৃতি
দুঃখ দেওয়ার মানুষ২০২২ব্যক্তিগত কষ্ট ও বিচ্ছেদ

নাহিদের গানে প্রেমের ব্যথা, বিচ্ছেদ, শৈশব স্মৃতি ও পরিবারের আবেগ উঠে আসে। বিশেষ করে মা-বাবাকে নিয়ে তার গানগুলো শ্রোতাদের স্পর্শ করে। তিনি পরিকল্পনা করছেন, প্রথম সলো অ্যালবামের পর মা-বাবার নিয়ে একটি EP প্রকাশ করবেন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টি:
নাহিদ প্লেব্যাক করেছেন ‘হাওয়াই মিঠাই’ সিনেমার জন্য। তবে ডিজিটাল যুগে গান প্রকাশের সুবিধা থাকলেও শিল্পীকে নিজস্ব সত্তার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তিনি বলেন, “গান প্রকাশ করলেও বিপণন জটিলতা তৈরি করে, তাই নিজস্ব সৃজনশীলতা সংরক্ষণ জরুরি।”

নাহিদের একটাই লক্ষ্য—একদিন পুরোপুরি গানে নিজেকে উৎসর্গ করা এবং বিশ্বজুড়ে গান দিয়ে তরুণদের সাথে আবেগ ভাগ করা।