পপ জগতের প্রখ্যাত তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স তাঁর সব গানের স্বত্ব প্রাইমারি ওয়েভ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর এই চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৪০ কোটি টাকা) মূল্যের স্বত্ব বিক্রি করেন।
ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নয়টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে। ১৯৯৯ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে তাঁর গান বিশ্বজুড়ে ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে ‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’, ‘ওপস! আই ডিড ইট এগেইন’ এবং ‘টক্সিক’ গানগুলোর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
সংগীত জীবন ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
ব্রিটনি স্পিয়ার্স ২০২২ সালে এলটন জনের সঙ্গে ‘হোল্ড মি ক্লোজার’ গানটি প্রকাশের পর আর কোনো নতুন গান প্রকাশ করেননি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঘোষণা করেন, তিনি আর কখনো সংগীতজগতে ফিরবেন না।
স্পিয়ার্সের ব্যক্তিগত জীবনও চরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর আইনি অভিভাবকত্ব পান পিতা জেমি স্পিয়ার্স। এরপর প্রায় ১৩ বছর ধরে ব্রিটনির অর্থ ও ব্যক্তিগত জীবনের সব নিয়ন্ত্রণ বাবার হাতে ছিল। ২০২১ সালে ব্রিটনি এই ‘বন্দিদশা’ থেকে মুক্তি পান এবং ২০২৩ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘দ্য ওম্যান ইন মি’-তে তাঁর সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরেন।
প্রাইমারি ওয়েভ ও গানের স্বত্বের বাজার
প্রাইমারি ওয়েভ প্রতিষ্ঠা করেন সংগীত নির্বাহী লরেন্স মেস্টেল, যিনি ২০ বছর আগে কার্ট কোবেইনের গানের ৫০ শতাংশ স্বত্ব কিনে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ব্রুস স্প্রিংস্টিন, জাস্টিন বিবার, জাস্টিন টিম্বারলেক, শাকিরা-র মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও গানের স্বত্ব বিক্রি করেছে।
নিচের টেবিলে সম্প্রতি গানের স্বত্ব বিক্রির উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলো দেখানো হলো:
| শিল্পী/ব্যক্তি | চুক্তি সংস্থা | বিক্রির বছর | বিক্রির মূল্য (USD) | প্রায় টাকা (কোটি) |
|---|---|---|---|---|
| ব্রিটনি স্পিয়ার্স | প্রাইমারি ওয়েভ | ২০২৫ | ২০০ মিলিয়ন | ২৪৪০ |
| ব্রুস স্প্রিংস্টিন | সনি মিউজিক | ২০২১ | ৫০০ মিলিয়ন | ৬১০০ |
| জাস্টিন বিবার | হিপনোসিস সংস ক্যাপিটাল | ২০২৩ | ২০০ মিলিয়ন | ২৪৪০ |
ব্রিটনি স্পিয়ার্সের এই চুক্তি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতার প্রতীক নয়, এটি গানের বাজারের ওপরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সংগীত শিল্পে তারকা শিল্পীদের স্বত্ব বিক্রির এই ধারা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে, যেখানে শিল্পীরা নিজের সৃজনশীল অধিকার ও আর্থিক লাভকে একসাথে নিশ্চিত করছেন।
