বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা নতুন সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের শিল্পীরা চান—স্বচ্ছ নীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন। মাইলস ব্যান্ডের সদস্য হামিন আহমেদ এই চাহিদা তুলে ধরেছেন। সংগীত অঙ্গনের বর্তমান অবস্থা, শিল্পীদের মর্যাদা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন।
হামিন আহমেদ বলেন, “৫৪ বছরে দেশে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু সংগীতের পেশাকে এখনও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আগামী সরকারের কাছে এই পেশার স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের যেকোনো অস্থিরতা বা সংকটের সময় সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের নিয়ে অহেতুক টানাটানি ও সমালোচনা করা হয়। সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা থাকা উচিত, এ ধরনের অনাচার আর হবে না। জনগণকে তা জানা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি কোনো শিল্পীকে কাজের জন্য ডাকে, তাহলে তাকে দালাল বা ট্যাগিং দিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়। শিল্পীদের শিল্পী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি সরকারের দৃষ্টি থাকা উচিত।”
হামিন আহমেদের মতে, শিল্পীদের সিআইপি (CIP) মর্যাদা না থাকা ন্যায্য নয়। তিনি বলেন, “শিল্পীরা আয় করেন, নিয়ম মেনে কর দেন, কিন্তু সমাজে তাদের যথাযথ সম্মান নেই। অন্যান্য দেশে শিল্পীদের সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, আমাদের দেশে তা করা হয় না।”
তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সংগীত শিক্ষা দেওয়া হোক। এতে তাদের মানসিক বিকাশ হবে এবং তারা শিল্পের মর্যাদা বুঝতে পারবে। এছাড়া, দেশের সব শিল্পী যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে অনুষ্ঠান করতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
হামিন আহমেদ যোগ করেন, “সংগীতকে শিল্পের ক্ষেত্রে শুধু কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরিত করতে হবে। ভারতের মতো উদাহরণ অনুসরণ করে সংগীতকে বাণিজ্যিক এবং পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা ও পরামর্শ দেব।”
নিম্নে শিল্পীদের দাবি ও সরকারের সম্ভাব্য উদ্যোগ সংক্ষেপে টেবিল আকারে দেখানো হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | শিল্পীদের প্রত্যাশা | প্রস্তাবিত উদ্যোগ |
|---|---|---|---|
| রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি | নেই | শিল্পীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা | সিআইপি মর্যাদা প্রদান, নীতি ঘোষণা |
| কর্মপরিবেশ | অনিশ্চিত, অস্থির | নিরাপদ ও স্বাধীন কর্মপরিবেশ | শিল্পীদের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন অনুষ্ঠান |
| শিক্ষা | সংগীত নেই | প্রাথমিক থেকে সংগীত শিক্ষা | স্কুলে সংগীত পাঠক্রম সংযোজন |
| শিল্পের মর্যাদা | কর্নার করা হয় | শিল্পী হিসেবে গণ্য করা | শিল্পীদের সম্মান বৃদ্ধি, সরকারি সমর্থন |
| শিল্পকে ইন্ডাস্ট্রি | মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নেই | পেশাদার ইন্ডাস্ট্রি | সংগীতকে শিল্পে রূপান্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন |
হামিন আহমেদের বার্তা স্পষ্ট—সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন সরকার যদি এই চাহিদাগুলো পূরণ করে, তাহলে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল হবে।
