মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার অফিসে চার বোতল বিদেশি মদ রাখার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার রায় আগামী ৯ মার্চ ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমী রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত ওই দিনই রায় ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার।
এদিন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন
সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহিনুল ইসলাম, এবং
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের এসআই জামাল উদ্দিন।
আসিফ আকবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে। অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার জানান, “যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।”
এর আগে মামলার বাদী, সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার, ১৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য দেন। এ পর্যন্ত মামলায় মোট তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয়বস্তু | তারিখ / তথ্য |
|---|---|
| গ্রেপ্তার হওয়া | ৫ জুন ২০১৮ |
| আটককালে উদ্ধার হওয়া মদের সংখ্যা | চার বোতল বিদেশি মদ |
| মামলা দায়ের | ২৩ জুলাই ২০১৮, তেজগাঁও থানা |
| অভিযোগপত্র দাখিল | ১৩ নভেম্বর ২০১৯, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন |
| বিচার শুরুর আদেশ | ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ঢাকার প্রথম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত |
| সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সাজা | সাত বছর |
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ জুন রাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন আসিফ আকবর। তার অফিস কক্ষে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে ২৩ জুলাই ২০১৮ তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই প্রশান্ত কুমার সিকদার। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন।
অভিযোগপত্র দাখিলের প্রায় পাঁচ বছর পর, ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ঢাকার প্রথম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। প্রসিকিউটর তুষার বলেন, “গত ২০ মার্চ মামলাটি বিচারের জন্য আমাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের সক্ষমতা দেখিয়েছি।”
এবারের রায় ঘোষণাই আসিফ আকবরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার আওতায় পড়তে পারে।
