সুনিধির আবেগঘন কনসার্ট মুহূর্ত

ভারতের প্রসিদ্ধ গায়িকা সুনিধি চৌহান সম্প্রতি লখনৌয়ের কুলব্রিজ রিসর্ট-এ অনুষ্ঠিত কনসার্টে আবেগে ভেঙে পড়েন। ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই পারফরম্যান্সটি ছিল ‘আই অ্যাম হোম ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫-২৬’ এর অংশ। অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করে গায়িকার গলায় সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে গান গাইতে পারছিলেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২ বছর বয়সী সুনিধি চোখের জল মুছতে মুছতে দর্শকদের সঙ্গে নিজের অসুস্থতার কথা ভাগাভাগি করছেন। তিনি বলেন,
“আজ আমার গলা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তবে আমি জানি, আপনারা আমার সঙ্গে আছেন। হে ভগবান, এমনটা আগে কখনো আমার সঙ্গে ঘটেনি।”
তিনি গান গাইতে না পারাকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় আমার শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ ঠিকমতো গাইতে পারছি না। তাই দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।” যদিও শারীরিক অসুবিধা ছিল, তবুও কনসার্ট বাতিল করেননি। দর্শকদের উষ্ণ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়ে তিনি অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। উপস্থিত দর্শকরাও উৎসাহ দিয়ে পারফরম্যান্সের অংশ হয়েছেন।

সুনিধি চৌহানের ভারতীয় সংগীত সফর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুম্বাই থেকে শুরু হয়। এরপর তিনি দিল্লি, বেঙ্গালুরু, অহমদাবাদ, লখনৌ এবং চেন্নাই-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে কনসার্ট করেছেন। প্রত্যেক কনসার্টে দর্শকরা তার সঙ্গীত ও আবেগময় উপস্থিতি উপভোগ করেছেন।

নিচের টেবিলটি ‘আই অ্যাম হোম ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫-২৬’ এর প্রধান তারিখ ও শহরের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরেছে:

তারিখশহরভেন্যুমন্তব্য
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫মুম্বাইস্টার অডিটোরিয়ামসফরের উদ্বোধন
২ জানুয়ারি ২০২৬দিল্লিইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারদর্শক সংখ্যায় রেকর্ড
১৫ জানুয়ারি ২০২৬বেঙ্গালুরুফ্রেমিংহাম হলগলার সামান্য অসুস্থতা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬অহমদাবাদগ্লোবাল অ্যাভিনিউসঙ্গীত সমালোচকরা প্রশংসা
৭ মার্চ ২০২৬লখনৌকুলব্রিজ রিসর্টমঞ্চে আবেগঘন মুহূর্ত
১৪ মার্চ ২০২৬কলকাতাঅ্যাকোয়াটিকা গ্রাউন্ডসফরের সমাপ্তি

সংগীতপ্রেমীরা আশা করছেন, কলকাতার শেষ কনসার্টে সুনিধি তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ফিরে আনবেন। মঞ্চে আবেগে ভেঙে পড়া মুহূর্তটি প্রমাণ করে যে সুনিধি চৌহান কেবল কণ্ঠশিল্পী নন, বরং দর্শক ও মানুষের সঙ্গে গভীর আবেগের বন্ধন গড়ে তুলতে সক্ষম।

এই সফর দর্শকদের জন্য শুধু সঙ্গীতময় অভিজ্ঞতা নয়, বরং আবেগ, মানবিক সংযোগ এবং স্মরণীয় মুহূর্তের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।