চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র “রকস্টার”, যেখানে একসঙ্গে কাজ করছেন সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি এবং তাঁর স্ত্রী নাট্যকার নুসরাত মাটি। চলতি বছরের ২৬ মার্চ, নিজের জন্মদিনকে বিশেষভাবে উদযাপন করতে গিয়ে সানি এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যা ইতোমধ্যে শিল্পমহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এই ঘোষণা ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে এক ধরনের নতুন প্রত্যাশা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এই চলচ্চিত্রটি সানির ক্যারিয়ারে একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি কেবল সংগীত পরিচালনার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং সৃজনশীল নানা দিকেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, নুসরাত মাটি চিত্রনাট্য রচনার মাধ্যমে পুরো গল্পের কাঠামো গড়ে তুলছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু পরিচালক আজমান রুশো এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন, যার ফলে পুরো টিমের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৃজনশীল সমন্বয় আরও গভীর হয়েছে।
সানির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র একটি পেশাগত কাজ নয়; বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আস্থা এবং শিল্পীসত্তার এক অনন্য সমন্বয়। তিনি জানান, আজমান রুশোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহু বছরের পুরনো, যখন তারা ভিন্ন ভিন্ন ধারার সংগীতচর্চায় যুক্ত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং এখন তা বড় পর্দার একটি বৃহৎ সৃজনশীল যাত্রায় রূপ নিয়েছে।
চলচ্চিত্রটিতে মোট আট থেকে দশটি গান থাকবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। গানগুলোর মধ্যে থাকবে রোমান্টিক আবেগঘন পরিবেশনা, আধুনিক রক ঘরানার শক্তিশালী উপস্থাপন এবং দেশীয় লোকসংগীতের মিশ্রণ। বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে এসব গান উপস্থাপিত হবে, যা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে আছেন জাহিদ নীরব। তিনি জানান, এই প্রকল্পে কাজের বৈচিত্র্য অত্যন্ত বিস্তৃত। কোথাও তিনি গানের কথা লিখেছেন, কোথাও সুর নির্মাণ করেছেন, আবার কোথাও দুটো দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর মতে, এই বহুমাত্রিক কাজের কারণে চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিকল্পনা আরও সমৃদ্ধ ও গভীর হয়েছে।
নুসরাত মাটি এই চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করায় গল্পের আবেগ, বাস্তবতা এবং মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া আরও আন্তরিক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
নিচে চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| গানের ধরন | আনুমানিক সংখ্যা | বৈশিষ্ট্য | অংশগ্রহণকারী |
|---|---|---|---|
| রোমান্টিক গান | ২–৩টি | আবেগঘন ও গল্পনির্ভর পরিবেশনা | বিভিন্ন কণ্ঠশিল্পী |
| রক ধাঁচের গান | ২–৩টি | উদ্যমী ও শক্তিশালী উপস্থাপন | সানি ও অন্যান্য শিল্পী |
| লোকসংগীত ধাঁচ | ১–২টি | দেশীয় স্বাদের সংগীত উপাদান | অতিথি শিল্পী |
| মিশ্র ধাঁচ | ২–৩টি | পরীক্ষামূলক ও বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন | সানি ও দল |
সব মিলিয়ে “রকস্টার” কেবল একটি সাধারণ চলচ্চিত্র নয়, বরং এটি একাধিক প্রজন্ম ও ধারার শিল্পীদের মিলিত প্রচেষ্টার একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে। সংগীত, গল্প এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই সম্মিলন দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সানি-মাটি জুটির এই নতুন যাত্রা ইতোমধ্যেই দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, যা চলচ্চিত্রটির প্রতি আগ্রহকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে।
