কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, কণ্ঠশিল্পী জাহিদ অন্তু আটক

ঢাকার ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, “গুলশান থানার এসআই কে এম রাশিদুর রহমান, আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামির আইনজীবী জামিন আবেদন করেছেন। শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।”


মামলার পটভূমি

প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এ গিটার ক্লাসের সময় ওই ছাত্রী জাহিদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তবে পরে তা ভেঙে যায় এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহিদের বাসায় একটি পণ্যের ফটোশুটের জন্য তিনি ছাত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন এবং বাসায় যেতে বলেন।

পরবর্তী দিনে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রী গুলশানের জাহিদের বাসায় যান। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং যৌন নিপীড়ন করেন। ছাত্রী বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, যার ফলে মুখ, গলা ও মাথায় গুরুতর আঘাত হয়। পরে ছাত্রী কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


মামলা ও তদন্তের বিস্তারিত

বিষয়বিবরণ
আসামিআবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু
অভিযোগকলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, মারধর
মামলার স্থানগুলশান থানার আওতাধীন, ঢাকা
ঘটনার তারিখ২৭ মার্চ ২০২৬
ঘটনার সময়সন্ধ্যা ৬টা
অভিযোগপত্র দাখিলহোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ ও বাসায় হামলা
প্রাথমিক চিকিৎসাকুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
আদালতের আদেশকারাগারে প্রেরণ, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার
তদন্তকারী কর্মকর্তাএসআই কে এম রাশিদুর রহমান, গুলশান থানা
আইনজীবীআসামি পক্ষের আবেদনকারী

উপসংহার

এই ঘটনায় ছাত্রীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জাহিদ অন্তুকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আগামী শুনানিতে মামলার বিস্তারিত বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

এছাড়া, ঘটনা সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা বহন করে। যৌন নিপীড়ন এবং শিক্ষার্থী নির্যাতন কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।