জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর দুই যুগ পর আবারও জাপানের মঞ্চে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন। ২০০২ সালের শেষপ্রান্তে জাপানে প্রথমবারের মতো স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর পর, এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ‘বৈশাখী মেলা ২০২৬’-এ গান গাইবেন তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ এপ্রিল জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের মিশাতো সিটির লিতপিয়া পার্কে।
মেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো জাপানে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি পরিচয় করানো এবং প্রবাসী সমাজে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের বন্ধন বৃদ্ধি করা। আয়োজনের জন্য স্থানীয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আঁখি আলমগীরের উচ্ছ্বাস
আঁখি আলমগীর বলেন,
“দুই যুগ আগে প্রথমবার জাপান গিয়েছিলাম একটি শোতে। সে সময় আমার সঙ্গে ছিলেন শ্রদ্ধেয় কুমার বিশ্বজিৎ দাদা, হানিফ সংকেত ভাই, বেবী নাজনীন আপা, রবি চৌধুরী, ডলি সায়ন্তনী, মৌসুমীসহ আরও অনেকে। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। এবার আমি লিড দিচ্ছি এবং পুরো অনুষ্ঠানকে নতুন মাত্রা দিতে চাই। আগামী ৮ এপ্রিল জাপানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হব। আশা করি এই আয়োজন দর্শকদের মন জয় করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার সঙ্গে পুরো টিম যাচ্ছে। আয়োজকরা আমাদের নিমন্ত্রণ করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি সবার সামনে সুন্দর পরিবেশনা দিতে পারব।”
নতুন গান: ‘আমি মানে তুমি’
বাংলা নববর্ষের বিশেষ উপলক্ষ্যে আগামীকাল আঁখি আলমগীরের কণ্ঠে প্রকাশ পাবে নতুন মৌলিক গান শিরোনাম ‘আমি মানে তুমি’। গানটি লিখেছেন প্লাবন কোরেশি, সুর করেছেন বেলাল খান, এবং এতে আঁখি ও বেলাল Khan-এর দ্বৈত কণ্ঠ শুনা যাবে। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী।
আঁখি বলেন,
“বেলালের সঙ্গে এবারই প্রথম গান করেছি। গানটি রিদমিক এবং খুব মধুর। চন্দন ভাইও ভিডিওতে খুব যত্ন সহকারে কাজ করেছেন। আশা করি সবাইকে ভালো লাগবে। পাশাপাশি আরও কিছু নতুন গানে কাজ চলছে।”
আঁখির স্টেজ শো ও সঙ্গীত কার্যক্রম
| কার্যক্রম | বিবরণ | তারিখ/সময়সূচি |
|---|---|---|
| জাপান মঞ্চ শো | বৈশাখী মেলা ২০২৬, লিতপিয়া পার্ক, মিশাতো সিটি | ১২ এপ্রিল ২০২৬ |
| রওয়ানা | জাপান যাত্রা | ৮ এপ্রিল ২০২৬ |
| নতুন গান প্রকাশ | ‘আমি মানে তুমি’, দ্বৈত কণ্ঠে বেলাল খান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ |
| ভিডিও নির্মাতা | চন্দন রায় চৌধুরী | প্রকাশের সাথে সমন্বয় |
| ভবিষ্যৎ গানের কাজ | স্টেজ শো ও নতুন গান সংকলন | চলমান |
আঁখি আলমগীরের এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি শো নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও আনন্দের এক বিশেষ সেতুবন্ধনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর উচ্ছ্বাস এবং নতুন সৃষ্টিগুলো নিশ্চিতভাবেই জাপানের প্রবাসী প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
এই আয়োজন এবং নতুন গান উভয়ই প্রমাণ করে যে, দুই যুগের ব্যবধানও শিল্পীর প্রতিভা ও জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
