অভিনয় জগতের গণ্ডি পেরিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উপস্থাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান। তার উপস্থাপনায় বিদেশের মাটিতে আয়োজিত টক-শো ‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মাঝে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে হাজির হন বিনোদন জগতের কোনো না কোনো গুণী ব্যক্তিত্ব। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জায়েদ খানের আমন্ত্রণে অতিথি হয়ে আসছেন নব্বই দশকের হার্টথ্রব সংগীতশিল্পী শুভ্রদেব।
আগামী ১০ এপ্রিল, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ‘ঠিকানা’র পর্দায় এই বিশেষ পর্বটি প্রচারিত হতে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গানের রাজপুত্র হিসেবে পরিচিত শুভ্রদেবকে নিজের শো-তে পেয়ে জায়েদ খান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতিচারণা
শুভ্রদেবের গানের প্রশংসা করতে গিয়ে জায়েদ খান বলেন, “নব্বই দশকে এই মানুষটার গান শোনেননি বা তার মতো করে গাওয়ার চেষ্টা করেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তার প্রতিটি গান ছিল তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে। তার ক্যারিয়ার শুধু দীর্ঘ নয়, বরং বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ।”
এই অনুষ্ঠানে শুভ্রদেব তার দীর্ঘ সংগীতজীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর গল্প শোনাবেন। সেই সাথে দর্শকদের অনুরোধে গেয়ে শোনাবেন তার জনপ্রিয় কিছু গান। আড্ডার ফাঁকে উঠে আসবে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু বিশেষ অর্জন, যা আজও অনেক সংগীতপ্রেমীর কাছে বিস্ময়কর।
শুভ্রদেবের ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক
সংগীতের পাশাপাশি শুভ্রদেব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তার ক্যারিয়ারের কিছু দুর্লভ অর্জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| বিশেষ ক্ষেত্র | অর্জনের বিবরণ |
| আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন | বলিউড সুপারস্টার আমির খানের সাথে ‘পেপসি’র বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। |
| বিশ্ব সংগীতের সাথে সংযোগ | তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী যিনি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। |
| জাতীয় স্বীকৃতি | ১৯৮০ সালে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ করেন। |
| জনপ্রিয় অ্যালবাম | ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’, ‘এ মন আমার’, এবং ‘দলছুট’ এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন। |
| শিক্ষা ও সংগীত | রসায়নে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেও সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। |
অনুষ্ঠানের পটভূমি ও প্রত্যাশা
‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’ মূলত প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জায়েদ খানের নিজস্ব বাচনভঙ্গি এবং অতিথিদের সাথে তার রসায়ন দর্শকদের নতুন বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে। এর আগের পর্বগুলোতেও দেশের স্বনামধন্য তারকারা অংশ নিয়েছেন, তবে শুভ্রদেবের পর্বটি সংগীত অনুরাগীদের জন্য আলাদা মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুভ্রদেবের মতো একজন অভিজ্ঞ শিল্পী যখন বর্তমান সময়ের আলোচিত একজন উপস্থাপকের মুখোমুখি হন, তখন অবধারিতভাবেই পুরনো দিনের নস্টালজিয়া ফিরে আসে। নব্বইয়ের দশকের সেই সোনালি দিনগুলো, কনসার্টের উন্মাদনা এবং তৎকালীন আধুনিক গানের বিবর্তন নিয়ে এই পর্বে বিস্তারিত আলাপ হবে বলে জানা গেছে।
একজন গুণী শিল্পীকে যথাযথ সম্মান প্রদান এবং তার জীবনের অজানা গল্পগুলো দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। শুভ্রদেব বর্তমানে গানে নিয়মিত না থাকলেও তার কালজয়ী গানগুলো আজও রেডিও বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। তাই আগামী শুক্রবারের এই পর্বটি যে দর্শকপ্রিয়তা পাবে, তা সহজেই অনুমেয়। বিনোদন প্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকার এই জমজমাট আড্ডা দেখার জন্য।
