বগুড়ার পাঁচতারা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মমো ইন-এর খোলা মাঠে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হলো ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। দেশের সংগীত জগতের উজ্জ্বল তারকাদের মিলনমেলায় এই আয়োজনটি নান্দনিক ও ঝলমলে পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি দর্শক ও শিল্পী উভয়ের জন্য এক স্মরণীয় সন্ধ্যা হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে সৃজনশীলতা ও প্রতিভার উদযাপন ঘটেছে।
এবারের আয়োজনের বিশেষ আলোচনার বিষয় ছিল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নাটক ‘তিলোত্তমা’-এর গান ‘প্রেম বুঝি’। গানটির জন্য যৌথ সম্মাননা পেয়েছেন ইমরান মাহমুদুল ও সিঁথি সাহা। সংগীতায়োজন করেছেন সৈয়দ নাফিস, যিনি সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তার অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সৈয়দ নাফিস বলেন, “আমার সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও আমার কাজকে সম্মানিত করা হয়েছে। গানটি রিলিজের সময় শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এজন্য অবশ্যই ইমরান ভাইয়া, সিঁথি আপু এবং নাটকটির পরিচালক জাহিদ প্রীতম ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, আর বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। এই ধরনের সম্মাননা দেশের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ধারার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, ইমপ্রেস চ্যানেল আই-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মজুমদার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি। তারা শিল্পীদের সঙ্গে সাফল্যের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন।
নিচের টেবিলে সম্মাননা ও বিশেষ পুরস্কার গ্রহণকারীদের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | ব্যক্তি/শিল্পী | সম্মাননার ধরন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| যৌথ সম্মাননা | ইমরান মাহমুদুল ও সিঁথি সাহা | ‘প্রেম বুঝি’ গান | নাটক ‘তিলোত্তমা’-এর জনপ্রিয় গান |
| সংগীতায়োজনকারী | সৈয়দ নাফিস | গানের সংগীতায়োজন | সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও স্বীকৃতি পেয়েছেন |
| আজীবন সম্মাননা | রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা | আজীবন কৃতিত্ব | বাংলাদেশের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি |
| বিশেষ সম্মাননা | কাঙ্গালিনী সুফিয়া | বিশেষ সম্মাননা | সাম্প্রতিক কালের উল্লেখযোগ্য সংগীত অবদান |
সারসংক্ষেপে, ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড দেশের সংগীত ও নাট্যজগতে শিল্পীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইমরান ও সিঁথি যৌথভাবে এবং নাফিসের সুর-সংগীতায়োজনে তৈরি ‘প্রেম বুঝি’ গানটি তার গুণমান ও জনপ্রিয়তার কারণে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সংগীতশিল্পীদের অবদানের পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক ধারার প্রসার ও প্রচারকে শক্তিশালী করেছে।
এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে সংগীত ও নাট্যজগতের প্রতিভা স্বীকৃতির মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবন ও মানসম্মত কৃতিত্বকে উৎসাহিত করছে, যা ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তুলবে।
