রাজনীতিতে যোগ দেবেন না শিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ

পাঞ্জাবি সংগীত ও সংস্কৃতির বিশ্বখ্যাত প্রতিনিধি দিলজিৎ দোসাঞ্জ সম্প্রতি তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের জল্পনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন। গত কয়েক দিন ধরে ভারতের পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, এই জনপ্রিয় তারকা সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ তাঁকে পাঞ্জাবের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এবং কর্মক্ষেত্র হলো বিনোদন জগত।

রাজনৈতিক জল্পনা ও দিলজিতের অবস্থান

দিলজিৎ দোসাঞ্জ তাঁর রাজনীতিতে আসা নিয়ে একটি পাঞ্জাবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি সেখানে পাঞ্জাবি ভাষায় উল্লেখ করেন যে, তিনি কোনোভাবেই রাজনীতিতে জড়াবেন না। তাঁর মতে, একজন শিল্পী হিসেবে মানুষকে বিনোদন দেওয়াই তাঁর প্রধান দায়িত্ব এবং এই কাজের মাধ্যমেই তিনি অত্যন্ত সুখে আছেন। এর মাধ্যমে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে সংগীত ও অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি পাঞ্জাবি সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বেশি আগ্রহী।

দিলজিৎ দোসাঞ্জের বর্তমান কর্মব্যস্ততা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

প্রকল্পের নামধরণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
অরা ট্যুরবিশ্বব্যাপী সংগীত সফরদিলজিৎ দোসাঞ্জ
বর্ডার ২যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রসানি দেওল, বরুণ ধাওয়ান
ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গাপিরিয়ড ড্রামা চলচ্চিত্রইমতিয়াজ আলি, শর্বরী
অমর সিং চমকিলাজীবনীনির্ভর চলচ্চিত্রইমতিয়াজ আলি (পরিচালক)

বৈশ্বিক ব্যস্ততা ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ

বর্তমানে দিলজিৎ দোসাঞ্জ তাঁর ‘অরা ট্যুর’ নামক বিশ্বব্যাপী সংগীত সফর নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি কনসার্ট করছেন। সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টে দর্শকসারিতে বিতর্কিত পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠান থামিয়ে দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন এবং সংবাদের শিরোনাম হন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে তিনি বিখ্যাত ‘জিমি ফ্যালন শো’-তে অংশগ্রহণ করেন, যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিতি এনে দিয়েছে।

চলচ্চিত্র জগতে নতুন পদচিহ্ন

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও দিলজিৎ বর্তমানে সাফল্যের শিখরে রয়েছেন। ১৯৯৭ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘বর্ডার’-এর পরবর্তী কিস্তি ‘বর্ডার ২’-এ তিনি সানি দেওল ও বরুণ ধাওয়ানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

দিলজিতের আসন্ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে প্রখ্যাত নির্মাতা ইমতিয়াজ আলির চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। ‘অমর সিং চমকিলা’ চলচ্চিত্রের ব্যাপক সাফল্যের পর এটি ইমতিয়াজ আলির সাথে তাঁর দ্বিতীয় কাজ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই পিরিয়ড ড্রামা চলচ্চিত্রে দিলজিতের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শর্বরী। চলচ্চিত্রটিতে সুরারোপ করেছেন বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক এ আর রহমান এবং গানের কথা লিখেছেন ইরশাদ কামিল। ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাওয়া এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

উপসংহার

দিলজিৎ দোসাঞ্জ তাঁর পেশাদার জীবনের এই তুঙ্গে থাকা অবস্থায় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে মূলত নিজের শিল্পসত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিনোদন জগতের মাধ্যমেই তিনি তাঁর জাতি ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সেবা করতে পারবেন। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সরিয়ে রেখে তিনি বর্তমানে তাঁর বিশ্ব সফর এবং আসন্ন চলচ্চিত্রগুলোর প্রচারণায় সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করছেন। তাঁর এই সোজাসাপ্টা অবস্থান ভক্তদের নিকট তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।