১৩ বছর পর স্ট্রমির ‘পাপাউতে’ আবার ভাইরাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো গানের নতুন ট্রেন্ডে আবারও আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ান শিল্পী স্ট্রমির (আসল নাম পল ভ্যান হেভেন) জনপ্রিয় গান ‘পাপাউতে’। ২০১৩ সালে প্রকাশিত এই হিপ-হপ গানটি ২০২৬ সালে এসে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ব্যবহারকারীরা গানটির সুর ব্যবহার করে রিল ও ভিডিও তৈরি করায় এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

‘পাপাউতে’ শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘বাবা, তুমি কোথায়?’ গানটির মূল উপজীব্য একজন সন্তানের বাবাকে হারানোর বেদনা এবং তার অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট শূন্যতা। গানের কথায় পারিবারিক বিচ্ছেদ, অনুপস্থিত অভিভাবক এবং মানসিক কষ্টের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

গানটির সঙ্গে স্ট্রমির ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংযোগ রয়েছে। তিনি শৈশবে বাবাকে হারান মাত্র ৯ বছর বয়সে। জানা যায়, রোয়ান্ডায় চলমান সহিংস পরিস্থিতির সময় তার বাবা সেখানে সফরে গিয়ে নিহত হন। এই ঘটনার ফলে তার জীবনে গভীর মানসিক প্রভাব পড়ে, যা পরবর্তীতে তার সঙ্গীতচর্চায় প্রতিফলিত হয়।

স্ট্রমি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার বাবা পেশাগত কারণে বেলজিয়াম ও রোয়ান্ডার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ফলে শৈশবে তিনি বাবার সান্নিধ্য খুব সীমিত সময়ই পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জীবদ্দশায় বাবার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল অল্প কয়েকবার। বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবাকে বাস্তবে কাছে না পাওয়ার কারণে সেই খবর তার মধ্যে স্বাভাবিক আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি।

গানটির মিউজিক ভিডিওতেও প্রতীকী উপস্থাপন লক্ষ্য করা যায়। এতে স্ট্রমিকে জ্যামিতিক নকশার পোশাক পরে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, আর চারপাশে আদিবাসী ঢাকবাদকেরা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন। এই দৃশ্যায়নের মাধ্যমে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত থাকা, এবং সম্পর্কের শূন্যতা—এই ভাবনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

স্ট্রমির সঙ্গীত ক্যারিয়ারে ‘পাপাউতে’ ছাড়াও একাধিক জনপ্রিয় গান রয়েছে। ২০০৯ সালে প্রকাশিত তার ‘আলোর্স অন ডান্সে’ গানটি ১৭টিরও বেশি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘চিস’ প্রকাশিত হয়, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পাপাউতে’ গানটি নতুন প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে আবেগঘন কনটেন্ট তৈরির জনপ্রিয় অডিও হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গানটি আবার