শাকিরা-বুর্না বয়ের দাই দাই বিশ্বকাপ থিম সং প্রকাশ

ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে ‘দাই দাই’ গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বুর্না বয়। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে গানটির প্রথম মঞ্চায়নের এক সপ্তাহ পর এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে একযোগে প্রকাশ করা হয়।

শুক্রবার (১৫ মে) বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা গানটির বৈশ্বিক মুক্তির ঘোষণা দেয়। ফিফা জানায়, ‘দাই দাই’ গান থেকে অর্জিত সব ধরনের রয়্যালটি তাদের বিশেষ ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা করা হবে। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই গান থেকে টুর্নামেন্ট শেষে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে ব্যয় করা হবে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। এবারের আসর যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই। ফিফা এটিকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের হাফ টাইম শোতে একসঙ্গে লাইভ পারফর্ম করবেন শাকিরা, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কেপপ গ্রুপ বিটিএস (BTS)। আয়োজকদের মতে, এই যৌথ পরিবেশনা বিশ্বব্যাপী ফুটবল ও সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক আয়োজন হবে।

বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার অংশগ্রহণ এবার প্রথম নয়। এর আগে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তিনি অফিসিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ পরিবেশন করেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়া ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠানেও তিনি পারফর্ম করেছিলেন।

নতুন থিম সং ‘দাই দাই’-এর মাধ্যমে আবারও বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সংগীত উপস্থিতি যুক্ত হলো। ফিফার মতে, এই গান ফুটবল, সংস্কৃতি ও সংগীতের সমন্বয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।

ফিফা আরও জানিয়েছে, এবারের থিম সং শুধুমাত্র একটি সংগীত প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। সংগৃহীত অর্থ শিশুদের শিক্ষা ও ক্রীড়া উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘দাই দাই’-এর প্রকাশ এবং ফাইনালের হাফ টাইম শো আয়োজন ফুটবল ও বিনোদনের সমন্বিত এক বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।