ঢাকায় এক সন্ধ্যায় বাপ্পা মজুমদার ও জলের গানের পরিবেশনা

রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, সংগীত, চিত্রকলা ও নাটক ঘিরে সাজানো হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন। সংগীতপ্রেমীদের জন্য দিনের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের একক পরিবেশনা এবং লোকজ সুরের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের মেলবন্ধনে পরিচিত ব্যান্ড জলের গানের অনুষ্ঠান। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে শিল্পকলা নিয়ে আলোচনা, চিত্র প্রদর্শনী এবং মঞ্চনাটকের।

নগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈচিত্র্য আনতে এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় মঞ্চের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট পরিসরের সংগীত আসর, শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং গ্যালারিভিত্তিক প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করছে। ৯ অক্টোবরের আয়োজনগুলোতেও সেই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যাবে।

বাপ্পা মজুমদারের গানে মুগ্ধ হওয়ার সুযোগ

শুক্রবার সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ‘মুনলিট মেলোডি’। এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নিজস্ব কণ্ঠশৈলী, সুরের বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চার মাধ্যমে বাপ্পা মজুমদার বাংলাদেশের আধুনিক গানের জগতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর গানে আধুনিক সংগীতের বিন্যাসের পাশাপাশি আবেগনির্ভর উপস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন বয়সের শ্রোতার কাছে তাঁর সংগীতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

‘মুনলিট মেলোডি’ আয়োজনটি শ্রোতাদের সরাসরি তাঁর গান উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে। যারা পরিচিত গানের পাশাপাশি শিল্পীর কণ্ঠে লাইভ সংগীত শুনতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে সন্ধ্যার আকর্ষণীয় আয়োজন।

বনানীতে জলের গানের সংগীতসন্ধ্যা

একই দিনে রাজধানীর সংগীতপ্রেমীদের জন্য থাকছে ব্যান্ড জলের গানের পরিবেশনা। ‘আড্ডায় জলের গান’ শিরোনামের অনুষ্ঠানটি রাত ৮টায় বনানীর বাটারনোট জ্যাজ ক্যাফেতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

লোকজ সংগীতের উপাদানকে সমকালীন সুর ও সংগীতায়োজনের সঙ্গে মেলানোর জন্য পরিচিত জলের গান। ব্যান্ডটির পরিবেশনায় বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের আবহের পাশাপাশি আধুনিক সংগীতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। প্রচলিত ধারার বাইরে সংগীতের স্বাদ নিতে আগ্রহী শ্রোতাদের কাছে এ ধরনের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

বাটারনোট জ্যাজ ক্যাফের মতো তুলনামূলক ছোট পরিসরের ভেন্যুতে সংগীতশিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সুযোগ থাকে। বড় কনসার্টের ভিড়ের বাইরে বসে সরাসরি গান শোনা এবং শিল্পীদের পরিবেশনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা এ ধরনের আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দেয়।

ঢাকায় ছোট পরিসরের সংগীতানুষ্ঠান ব্যান্ড ও স্বাধীন সংগীতশিল্পীদের জন্য শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে এসব আয়োজন নগরীর সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে সহায়তা করে।

শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপির সঙ্গে শিল্পভাবনা নিয়ে আলোচনা

সংগীতের পাশাপাশি শুক্রবারের সাংস্কৃতিক সূচিতে রয়েছে চিত্রকলা ও শিল্পবিষয়ক আলোচনা। খ্যাতিমান বাংলাদেশি শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপি অংশ নেবেন ‘বিয়িং অ্যান্ড বিলংগিং’ শীর্ষক একটি আলোচনায়। বিকেল ৫টায় মালিবাগের কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচনায় শিল্পীর শিল্পযাত্রা, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং নিজের অবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতির মতো বিষয় উঠে আসবে। একজন শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয়ের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে, এ ধরনের আলোচনা থেকে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।

শিল্পকলা নিয়ে আগ্রহী দর্শক ও শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পীর অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রদর্শনীতে শিল্পকর্ম দেখার পাশাপাশি শিল্পীর ভাবনা ও সৃষ্টির পেছনের প্রেরণা সম্পর্কে জানার সুযোগ শিল্পের প্রতি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

দুর্গার শিল্পিত রূপ নিয়ে প্রদর্শনী

ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে ৯ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শকদের জন্য খোলা থাকার কথা রয়েছে।

দেবী দুর্গাকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈল্পিক ব্যাখ্যা তুলে ধরাই এ প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতিতে দুর্গা একটি পরিচিত বিষয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি চিত্রকলা, ভাস্কর্য ও বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমে দেবীর রূপ নানা আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ধরনের প্রদর্শনীতে একই বিষয়কে শিল্পীরা কীভাবে ভিন্ন রং, রেখা, উপস্থাপনা ও কল্পনার মাধ্যমে তুলে ধরেন, তা দেখার সুযোগ থাকে। ফলে দর্শকেরা শুধু পরিচিত প্রতিমূর্তি দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং শিল্পীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল ব্যাখ্যার সঙ্গেও পরিচিত হতে পারেন।

বাংলাদেশের সাত দশকের চিত্রচর্চা নিয়ে ‘আনব্রোকেন লাইন’

বাংলাদেশের চিত্রকলার ইতিহাস ও বিকাশ নিয়ে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ‘আনব্রোকেন লাইন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এটি চলার কথা রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দেখার সুযোগ থাকবে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সাত দশকের অঙ্কনচর্চার প্রতিনিধিত্বকারী কাজ স্থান পাচ্ছে। এতে পথিকৃৎ শিল্পীদের সৃষ্টির পাশাপাশি সমকালীন শিল্পীদের কাজও উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের চিত্রকলায় সময়ের সঙ্গে বিষয়বস্তু, শৈলী ও প্রকাশভঙ্গির পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

একটি দেশের শিল্পচর্চা শুধু স্বতন্ত্র শিল্পীর কাজের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সময়ের সামাজিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও মানুষের জীবনবোধ। বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ পাশাপাশি দেখার সুযোগ সেই ধারাবাহিকতা বুঝতে সহায়তা করে। ‘আনব্রোকেন লাইন’ প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের চিত্রকলার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সংযোগ খুঁজে দেখার একটি সুযোগ তৈরি করবে।

মঞ্চে গ্রামীণ জীবনের গল্প বলবে ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’

নাট্যপ্রেমীদের জন্য শুক্রবার ও শনিবার, ৯ ও ১০ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ নাটকটি। সেলিম আল দীনের রচনায় নাটকটি মঞ্চস্থ হবে রাজধানীর মগবাজারের পালাকার রুফটপ স্টুডিওতে। দুই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নাটকটির কাহিনিতে গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জীবনের নানা টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ ধরনের নাটক গ্রামীণ সমাজের জীবনবোধ ও বাস্তবতার সঙ্গে দর্শকদের পরিচিত করে।

বাংলা নাট্যসাহিত্যে সেলিম আল দীনের রচনাশৈলী ও দেশজ জীবনভিত্তিক নাট্যভাবনা বিশেষভাবে আলোচিত। তাঁর নাটকে স্থানীয় জীবন, ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফলে তাঁর রচনার মঞ্চায়ন দর্শকদের কাছে কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বাংলার জীবন ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগও তৈরি করে।

একই দিনে সংগীত, চিত্রকলা ও নাটকের বৈচিত্র্য

৯ অক্টোবরের সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো ঢাকার বিনোদন ও শিল্পচর্চার বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরছে। সন্ধ্যায় বাপ্পা মজুমদারের সংগীত পরিবেশনা এবং রাতে জলের গানের অনুষ্ঠান সংগীতপ্রেমীদের জন্য দুটি আলাদা বিকল্প তৈরি করেছে। অন্যদিকে, শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপির সঙ্গে আলোচনা, দুর্গাবিষয়ক প্রদর্শনী এবং বাংলাদেশের চিত্রকলার সাত দশকের ইতিহাস নিয়ে আয়োজন শিল্পানুরাগীদের জন্য রেখেছে ভিন্ন অভিজ্ঞতার সুযোগ।

একই সঙ্গে সেলিম আল দীনের নাটকের মঞ্চায়ন সাহিত্য ও নাট্যকলার প্রতি আগ্রহীদের আকৃষ্ট করতে পারে। অর্থাৎ, একই দিনে রাজধানীতে সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলা ও নাটকের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে।

তবে একাধিক অনুষ্ঠান একই সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় দর্শকদের নিজেদের পছন্দ, ভেন্যুর অবস্থান এবং যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করতে হবে। যারা লাইভ সংগীত উপভোগ করতে চান, তাঁরা বাপ্পা মজুমদার ও জলের গানের মধ্য থেকে পছন্দ অনুযায়ী একটি অনুষ্ঠান বেছে নিতে পারেন। আর শিল্পকলা ও নাটকে আগ্রহীরা দিনের অন্য আয়োজনগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

সব মিলিয়ে, ৯ অক্টোবরের এই সাংস্কৃতিক সূচি রাজধানীর শিল্প ও বিনোদনজগতের বৈচিত্র্যকে সামনে এনেছে। সংগীতের সুর, চিত্রকলার ভাষা এবং মঞ্চনাটকের গল্প—তিন মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য ঢাকায় একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক দিনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Tags :

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।