জনম জনম গেল – [jonom jonom gelo] |  কাজী নজরুল ইসলাম

জনম জনম গেল – [jonom jonom gelo] |  কাজী নজরুল ইসলাম

জনম জনম গেল গানটি গেয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং এ গানের কথা লিখেছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম । 

ফিরোজা বেগম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে তিনি নজরুল সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন।

জনম জনম গেল – [jonom jonom gelo] |  কাজী নজরুল ইসলাম

গীতিকারঃ কাজী নজরুল ইসলাম

সুরকারঃ কাজী নজরুল ইসলাম

প্রথম রেকর্ডের কণ্ঠশিল্পীঃ ফিরোজা বেগম

জনম জনম গেল –

জনম জনম গেল আশা পথ চাহি
মরু মুসাফির চলি পার নাহি নাহি
জনম জনম গেল আশা পথ চাহি
বরষ পরে বরষ আসে যায় ফিরে
বরষ পরে বরষ আসে যায় ফিরে
পিপাসা মিটিয়ে চলি নয়নের নীড়ে
জ্বালিয়ে আলেয়া শিখা নিরাশার মরীচিকা
ডাকে মরু কাননিকা শত গীত গাহি
জনম জনম গেল আশা পথ চাহি
এ মরু ছিল গো কবে সাগরের বারি
স্বপনে হেরি গো তারে আজও মরুচারী
এ মরু ছিল গো কবে সাগরের বারি
স্বপনে হেরি গো তারে আজও মরুচারী
সেই সে সাগরতলে যে তরী ডুবিল জলে
সে তরী সাথীরে খুঁজি মরুপথ বাহি
জনম জনম গেল আশা পথ চাহি
মরু মুসাফির চলি পার নাহি নাহি
জনম জনম গেল আশা পথ চাহি
YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 জনম জনম গেল - [jonom jonom gelo] |  কাজী নজরুল ইসলাম
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

jonom jonom gelo lyrics :

Amar Jonom Gelo Vule Vule Koira Piriti
Jonom Gelo Vule Vule Koira Piriti
Premer haate mon harailam Na jene khoti, ami
Premer haate mon harailam Na jene khoti

Loha jemon porey kamar Ami temon puri…
Aar koto kaal purbi amay Hoiya kamari, tui
Hoiya kamari

Amar jibon khatay shunno pelam Haay re niyoti
Jibon khatay shunno pelam Haay re niyoti
Premer haate mon harailam Na jene khoti, ami
Premer haate mon harailam Na jene khoti

Shukno maati kada kore Kumar banay ghoti …
Torey valobaisha amar
Jibon hoilo maati,
amar Jibon hoilo mati (x2)

Amar jibon-ta re nosto korlam Vaiba na khoti
Jibon-ta re nosto korlam Bhaiba na khoti
Premer haate mon harailam Na jene khoti, ami
Premer haate mon harailam Na jene khoti

 

কাজী নজরুল ইসলামঃ

 

(২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬) (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ)বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় ছিল তিনি কবি । ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী’ নজরুল ইসলাম

চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত।পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনেষষ্ঠ সন্তান তিনি। তার বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম। নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উম্মে কুলসুম।কাজী নজরুল’ ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”
১৯০৮ সালে তার পিতার মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না।

বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল) দলে যোগ দেন। তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন এবং আরবি, ফার্সি ও উর্দূ ভাষায় তার দখল ছিল। এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন।তিনি আগস্ট ২৯- ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।

ফিরোজা বেগমঃ

(২৮ জুলাই ১৯৩০ – ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪) ফিরোজা বেগমের জন্ম ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা । 

 তিনি ১৯৫৪ সাল থেকে কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের (যিনি বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং নাম কামাল উদ্দিন আহমেদ রাখেন) সঙ্গে তার বিয়ে হয় ।

১৯৪০-এর দশকে তিনি সঙ্গীত ভুবনে পদার্পণ করেন। ফিরোজা বেগম ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানে কন্ঠ দেন।

১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে ইসলামী গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- ‘ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ‘ আর ‘প্রীত শিখানে আয়া‘।

দশ বছর বয়সে ফিরোজা বেগম কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করেন। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। কাজী নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ফিরোজা বেগম নজরুলসঙ্গীতের শুদ্ধ স্বরলিপি ও সুর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

নজরুলসঙ্গীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাত-সহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছেন।

তিনি জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে গোল্ড ডিস্ক, ২০১১ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেন। ১২ এপ্রিল ২০১২ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে “বঙ্গ সম্মান” পুরস্কার গ্রহণ করেন ।

তিনি  ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন । 

Leave a Comment