খোল খোল দ্বার লিরিক্স [ Kholo Kholo Dwar Lyrics ] । Rabindra Sangeet । অর্ঘ্য সেন । ARGHYA SEN

খোল খোল দ্বার লিরিক্স [ Kholo Kholo Dwar Lyrics ]

Rabindra Sangeet

অর্ঘ্য সেন । ARGHYA SEN

 

 

অর্ঘ্য সেন(ইংরেজি: Argha Sen) (১১ নভেম্বর, ১৯৩৫ ) প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। তিনি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

অর্ঘ্য সেনের জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে মামার বাড়িতে ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১১ ই নভেম্বর।  পিতার আদি বাড়ি ছিল খুলনার সেনহাটিতে। পিতা হেমেন্দ্রকুমার সেন কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। মাতা বিন্দুদেবী সংগীতচর্চা করতেন।

প্রথমদিকে এঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। অর্ঘ্য পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ফরিদপুরে পড়াশোনা করেন। তারপর চলে আসেন কলকাতায়।

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পাশ করেন কলকাতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে। কলেজের পড়াশোনা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। এখান থেকেই তিনি বিজ্ঞানে স্নাতক হন।

অর্ঘ্য সেন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সংস্কৃতিচর্চার সর্বোচ্চ ভারতীয় স্বীকৃতি হিসাবে সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার (রবীন্দ্র সংগীতে) লাভ করেন এবং ‘টেগোর ফেলো’ নির্বাচিত হন।

 

খোল খোল দ্বার লিরিক্স [ Kholo Kholo Dwar Lyrics ] । Rabindra Sangeet । অর্ঘ্য সেন । ARGHYA SEN

খোল খোল দ্বার লিরিক্স

খোল খোল দ্বার রাখিওনা আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে…..খোল খোল দ্বার রাখিওনা আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে

দাও সাড়া দাও এই দিকে চাও…..এসো দুই বাহু বাড়ায়ে।
খোল খোল দ্বার রাখিওনা আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে

কাজ হয়ে গেছে সারা…….উঠেছে সন্ধ্যা তাঁরা
কাজ হয়ে গেছে সারা…….উঠেছে সন্ধ্যা তাঁরা
আলোকেও খেয়া হয়ে গেলো দেয়া……অস্ত সাগরও পারায়ে
খোল খোল দ্বার রাখিওনা আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে।…বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে।

 

ভরিল কি জারি, এনেছ কি বারি
সেজেছ কি সূচী দুকুলে
বেঁধেছ কি চুল, তুলেছে কি ফুল
গেঁথেছ কি মালা মুকুলে।

ধেনু এলো গোঠে ফিরে
পাখিরা এসেছে নীড়ে
পথ ছিল যত জুড়িয়া জগত
আঁধারে গিয়েছে হারায়ে।

খোল খোল দ্বার রাখিওনা আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে
দাও সাড়া দাও এই দিকে চাও

 

 

খোল খোল দ্বার লিরিক্স [ Kholo Kholo Dwar Lyrics ] । Rabindra Sangeet । অর্ঘ্য সেন । ARGHYA SEN

রবীন্দ্রসঙ্গীত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত গান। বাংলা সংগীতের জগতে এই গানগুলি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী।

রবীন্দ্রনাথের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ও আমার সোনার বাংলা গানদুটি যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। এছাড়া ভারতের জাতীয় স্তোত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম্‌ গানটিতে রবীন্দ্রনাথই সুরারোপ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত মোট গানের সংখ্যা ২২৩২। তার গানের কথায় উপনিষদ্‌, সংস্কৃত সাহিত্য, বৈষ্ণব সাহিত্য ও বাউল দর্শনের প্রভাব সুস্পষ্ট।

 

অন্যদিকে তার গানের সুরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকি উভয় প্রকার) ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, টপ্পা, তরানা, ভজন ইত্যাদি ধারার সুর এবং সেই সঙ্গে বাংলার লোকসঙ্গীত, কীর্তন, রামপ্রসাদী, পাশ্চাত্য ধ্রুপদি সঙ্গীত ও পাশ্চাত্য লোকগীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

রবীন্দ্রনাথের সকল গান গীতবিতান নামক সংকলন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ১ম ও ২য় খণ্ডে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার গানগুলিকে ‘পূজা’, ‘স্বদেশ’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘বিচিত্র’ও ‘আনুষ্ঠানিক’ – এই ছয়টি পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছিলেন।

তার মৃত্যুর পর গীতবিতান গ্রন্থের প্রথম দুই খণ্ডে অসংকলিত গানগুলি নিয়ে ১৯৫০ সালে উক্ত গ্রন্থের ৩য় খণ্ড প্রকাশিত হয়।

এই খণ্ডে প্রকাশিত গানগুলি ‘গীতিনাট্য’, ‘নৃত্যনাট্য’, ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’, ‘নাট্যগীতি’, ‘জাতীয় সংগীত’, ‘পূজা ও প্রার্থনা’, ‘আনুষ্ঠানিক সংগীত, ‘প্রেম ও প্রকৃতি’ ইত্যাদি পর্যায়ে বিন্যস্ত। ৬৪ খণ্ডে প্রকাশিত স্বরবিতান গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় গানের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে সঙ্গীতচর্চার ব্যাপক প্রচলন ছিল। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দাদারা নিয়মিত সংগীতচর্চা ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে করতেন।

কিশোর বয়সে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতশিক্ষায় সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার নতুনদাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগারো বছর বয়সে লেখা ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে’ গানটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক রচিত প্রথম গান।

এরপর প্রায় ৭০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত গান রচনা করে গিয়েছিলেন। স্বরচিত গীতিকবিতা ছাড়াও কয়েকটি বৈদিক স্তোত্র ও বৌদ্ধ মন্ত্র এবং বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয়কুমার বড়াল, সুকুমার রায় ও হেমলতা দেবী কর্তৃক রচিত কয়েকটি গানে সুরারোপ করেছিলেন।

 

 

তার লেখা শেষ গানটি হল ‘হে নূতন দেখা দিক আর বার’। ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তার শেষ জন্মদিনে এটি পরিবেশিত হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও সুগায়ক ছিলেন। বিভিন্ন সভাসমিতিতে তিনি স্বরচিত গান পরিবেশন করতেন। কয়েকটি গান তিনি গ্রামোফোন ডিস্কেও প্রকাশ করেছিলেন। সঙ্গীত প্রসঙ্গে কয়েকটি প্রবন্ধও তিনি রচনা করেন।

এছাড়া স্বরচিত নাটকেও তিনি নিজের গান ব্যবহার করতেন। সঙ্গীতকে তিনি বিদ্যালয়-শিক্ষার পরিপূরক এক বিদ্যা মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তার রচিত গানগুলি বাঙালি সমাজে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

Leave a Comment