“তোরা যে যা বলিস ভাই” গানটি একটি রবীন্দ্রসংগীত । গানটি লিখেছেন এবং সুর করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । গানটি বাংলা শিল্পের অন্যতম সেরা সৃষ্টি ।
তোরা যে যা বলিস ভাই [ Tora Je Bolish Bhai ]
গীতিকারঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সুরকারঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তোরা যে যা বলিস ভাই [ Tora Je Bolish Bhai ]
তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই।
মনোহরণ চপলচরণ সোনার হরিণ চাই ।।
সে-যে চমকে বেড়ায়, দৃষ্টি এড়ায়, যায় না তারে বাঁধা।
সে-যে নাগাল পেলে পালায় ঠেলে, লাগায় চখে ধাঁদা।
আমি ছুটব পিছে মিছে-মিছে পাই বা নাহি পাই—
আমি আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই ।।
তোরা পাবার জিনিস হাতে কিনিস, রাখিস ঘরে ভরে—
যারে যায় না পাওয়া তারি হাওয়া লাগল কেন মোরে।
আমার যা ছিল টা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে—
আমার ফুরোয় পুঁজি, ভাবিস বুঝি মরি তারি শোকে?
আমি আছি সুখে হাস্যমুখে, দুঃখ আমার নাই।
আমি আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই ।।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ও সুরারোপিত গানকে রবীন্দ্রনাথ সংগীত বলে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী । রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত এক কবি। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন। তার প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২। তবে বাঙালি সমাজে তার জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীতস্রষ্টা হিসেবে।
রবীন্দ্রনাথ প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন। কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন।
এই মহাকবি ৭ আগষ্ট ১৯৪১ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান ।