এক সাগর রক্তের বিনিময়ে (1971) [ Ek Shagor Rokter Binimoy ]

“এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” গানটি বাঙ্গালীদের কাছে খুবই পরিচিত একটি গান । গানটি মূলত একটি গণসঙ্গীতগণসঙ্গীত হলো সঙ্গীতের একটি ধারা, যা মূলত রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক শোষণ, নির্যাতন, অত্যাচার অনাচারের বিরুদ্ধে গণ মানুষকে উদ্দীপ্ত করার গান ৷ গানটি লিখেছেন গোবিন্দ হালদার, গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন এবং সুর করেছেন আপেল মাহমুদ 

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে [ Ek Shagor Rokter Binimoy ]

গীতিকারঃ গোবিন্দ হালদার

সুরকারঃ আপেল মাহমুদ

প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ সাবিনা ইয়াসমিন

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে [ Ek Shagor Rokter Binimoy ]

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
আমরা তোমাদের ভুলব না।দুঃসহ এ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
আমরা তোমাদের ভুলব না।যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
ভুলব না… ভুলব না…

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
আমরা তোমাদের ভুলব না।

কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।
ঝংকৃত হবে… ঝংকৃত হবে… ঝংকৃত হবে….

নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
আমরা তোমাদের ভুলব না।।
ভুলব না….ভুলব না….ভুলব না…

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
আমরা তোমাদের ভুলব না।

গোবিন্দ হালদারঃ

গোবিন্দ হালদার ১৯৩০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বাঙালি গীতিকার। আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়। পাক বাহিনীর আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যায় ১৬ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি ।
তিনি ২০১৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

আপেল মাহমুদঃ

আপেল মাহমুদ হলেন একজন বাংলাদেশী গায়ক। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” গানের গায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। দেশাত্ববোধক গান ছাড়াও তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত, লালনগীতি, গণসঙ্গীত ও আধুনিক ধারার গান গেয়েছেন। মাহমুদ বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা সোনার চর মুন্সী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং জুন মাস পর্যন্ত ৩ নম্বর সেক্টরে তিনি যুদ্ধ করেছেন। তিনি তার নিজের লেখা “তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর” গানে কণ্ঠ দেন।

সাবিনা ইয়াসমিনঃ

সাবিনা ইয়াসমিন একজন বাংলাদেশিনেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী। সাবিনা শৈশব থেকে গানের তালিম নেওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি সাত বছর বয়সে প্রথম মঞ্চানুষ্ঠানে অংশ নেন এবং খেলাঘর নামে একটি বেতার অনুষ্ঠানে ছোটদের গান করতেন। ১৯৬২ সালে নতুন সুর চলচ্চিত্রে রবীন ঘোষের সুরে ছোটদের গানে অংশ নেন। চলচ্চিত্রে পূর্ণ নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ১৯৬৭ সালে আগুন নিয়ে খেলা চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।

সাবিনা ইয়াসমিন ১৯৫৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা লুতফর রহমান ব্রিটিশ রাজের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বেগম মৌলুদা খাতুন। পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল “জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো”, “সব ক’টা জানালা খুলে দাও না”, “ও আমার বাংলা মা”, “মাঝি নাও ছাড়িয়া দে”, “সুন্দর সুবর্ণ” ও “একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার”।

Leave a Comment