নাশিদ কামাল একজন বাংলাদেশী কণ্ঠশিল্পী, লেখিকা ও জনসংখ্যাতত্ত্ব বিষয়ের অধ্যাপিকা। তিনি বাংলা লোকগীতির বিখ্যাত শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ এর বড় নাতনি। কামাল নজরুল সংগীতের শিল্পী হিসেবে বিখ্যাত। নজরুল সংগীত এ তাঁর অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে নজরুল একাডেমি থেকে নজরুল পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে নজরুল পদক পেয়েছেন।
Table of Contents
জীবনী
মুস্তফা কামাল ও হুসনে আরা কামাল এর তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় নাশিদ কামাল যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। কামালের পিতা একজন বিচারক ছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মা ছিলেন কবি, অধ্যাপিকা ও জনহিতৈষী। তিনি অবসরের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।
নাশিদ কামালের দুই বোন হলেন নীলা সাত্তার ও নাফিজা কে মনেম। তাঁর চাচা মুস্তফা জামান আব্বাসী প্রখ্যাত বাংলাদেশী সংগীতজ্ঞ এবং চাচি ফেরদৌসী রহমান জনপ্রিয় নেপথ্য গায়িকা। দুই বছর বয়সে নাশিদ কামাল পিতামাতার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান) চলে আসেন। ছোট থাকতেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেছিলেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) পূর্বপাকিস্তান কেন্দ্রে (বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি) এর উদ্বোধনী দিনে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি গান করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ, ওস্তাদ আখতার সাদমানি, ওস্তাদ কাদের জামিরি, পণ্ডিত যশরাজ প্রমুখ প্রখ্যাত গুরুর কাছে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। গান শেখা ও গাওয়ার সঙ্গে তিনি তার্কিক ও উপস্থাপক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের টেলিভিশনে প্রচারিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা “তর্ক যুক্তি তর্ক” অনুষ্ঠানে তিনি শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লাভ করেন।
বৈবাহিক জীবন
নাশিদ কামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত চিকিৎসক আনিস ওয়াইজকে বিয়ে করেন, যিনি মেজর জেনারেল পদে থাকা অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত হন। আনিস ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের দুই মেয়ে আরমীন মুসা ও আশনা মুসা। আরমীন ঘাসফড়িং ব্যান্ডের গীতিকার-গায়িকা আর আশনা যুক্তরাজ্যনিবাসী আইনজীবী।
শিক্ষা
নাশিদ হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে মেয়েদের মেধাতালিকায় ৭ম স্থান অধিকার করেন। হলিক্রস কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সমন্বিত মেধাতালিকায় ২য় স্থান লাভ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন এবং ১৯৮০ সালে নিজের বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এরপর তিনি কানাডার কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয় (অটায়া) থেকে ১৯৮২ সালে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি লন্ডন এর ক্যামডেন এ ‘লন্ডন স্কুল অভ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ (LSHTM) এ মেডিকেল ডেমোগ্রাফিতে ডক্টোরাল ডিগ্রির জন্য যান এবং ১৯৯৬ সালে পিএইচডি লাভ করেন।
কন্ঠশিল্পী
নাশিদ কামাল চার দশক ধরে গান গেয়ে যাচ্ছেন। নজরুল গীতিশিল্পী হিসেবে সুখ্যাতি এবং বাংলা লোক সংগীত পরিবেশনের জন্য তিনি বহুলভাবে পরিচিত। তিনি ক্লাসিক্যাল এবং সেমি-ক্লাসিক্যাল সংগীত শিল্পী হিসেবে ও পরিচিত। তাছাড়া, তিনি উর্দু গজল গান ও গেয়ে থাকেন।
বাংলা এবং উর্দু গান গাওয়ার পাশাপাশি, তিনি অনেক বিদেশি ভাষায় যেমন- জাপানী, চীনা, রোমানিয়ান এবং টার্কি ভাষায় ও গান গেয়েছেন। নজরুল গীতি, গজল এবং লোক সংগীত সহ কামালের এগারটি রেকর্ডেড গানের এ্যালবাম আছে। যখন থেকেই তিনি শিশু শিল্পী হিসেবে গান শুরু করেন, তখন থেকেই তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রেডিও এবং টেলিভিশন স্টেশনে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসছেন।
পদক
- ২০০৯: নজরুল একাডেমী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নজরুল পুরস্কার
- ২০১১: চ্যানেল আই, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস
- ২০১৩: আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ডস – পরম্পরা পরিবার পদক
- ২০১৪: নজরুল ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নজরুল পদক
- ২০১৪: চুরুলিয়া নজরুল একাডেমী, ভারতের পক্ষ থেকে নজরুল পদক
সম্মাননা ও স্কলারশিপ
- সহযোগী গবেষক, গণিত ও পরিসংখ্যান ডিপার্টমেন্ট, কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়, অটোয়া, কানাডা। ১৯৮১-১৯৮২স্বল্পকালীন
- অনুদান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯০
- অভার্সিস স্টুডেন্ট গ্রান্ট, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, যুক্তরাজ্য। ১৯৯২-১৯৯৬
- সিমন জনসংখ্যা ফেলোশিপ, যুক্তরাজ্য। ১৯৯৪
- মেলন ফাউন্ডেশন এওয়ার্ড, যুক্তরাষ্ট্র। গ্রীষ্মকালীন ২০০১
- AIBS Award, যুক্তরাষ্ট্র। গ্রীষ্মকালীন ২০০১
- CAS Award, ISCB ২০০৮
- IUSSP Grant, মরক্কো। ২০০৯
