রামকানাই দাশ । বাংলাদেশী লোকসংগীতশিল্পী

পণ্ডিত রামকানাই দাশ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী ও সংগ্রাহক। তিনি ১৯৩৫ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে সিলেট বেতারে নিয়মিত সংগীত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করে থাকতেন।

 

রামকানাই দাশ । বাংলাদেশী লোকসংগীতশিল্পী

জীবনী

১৯৩৫ সালের ১৫ এপ্রিল রামকানাই দাশের জন্ম সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পুটকা গ্রামে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামে। বাবা রসিকলাল দাশ ও মা দিব্যময়ী দাশ ছিলেন লোকসংগীতের সাধক।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গান গেয়ে সবার মনোবল সমুন্নত রাখার কাজ করেছেন রামকানাই দাশ। ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে শুদ্ধ সংগীত প্রসার গোষ্ঠীর শীতকালীন সংগীত সম্মেলনে উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করে তিনি প্রথম সুধীমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্রে সরাসরি সংগীত শিক্ষার আসর ‘সা রে গা মা’ দুই বছর পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর গাওয়া গান নিয়ে প্রকাশিত অ্যালবামগুলো হলো বন্ধের বাঁশি বাজে, সুরধূনীর কিনারায়, পাগলা মাঝি এবং অসময়ে ধরলাম পাড়ি। তাঁর স্মৃতিকথা নিয়ে বেরিয়েছে বই সংগীত ও আমার জীবন। সংগীতশিক্ষার ওপর তাঁর দুটি গ্রন্থ হলো সরল সংগীত শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড।

 

 

তথ্যচিত্র

২০১১ সালে নির্মাতা ‘নিরঞ্জন দে’ ওস্তাদ রামকানাই দাশের জীবন ও কর্ম নিয়ে ‘সুরের পথিক’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন এবং এটি লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত হয়। তথ্যচিত্রটিতে কবি, ঘাটু, উড়ি, গাজী, ত্রিনাথ, বাউল, টপ্পাসহ লোক আঙ্গিকের বিভিন্ন ধারার গান ও তার শিল্পী জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়। এতে সঙ্গীতজ্ঞ প্রয়াত ওয়াহিদুল হক, ড. সন্জীদা খাতুন, ড. করম্নণাময় গোস্বামী, সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী, চন্দনা মজুমদারসহ অনেকের বক্তব্য এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের কিছু কিছু অংশ স্থান পায়।

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 রামকানাই দাশ । বাংলাদেশী লোকসংগীতশিল্পী
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

মৃত্যু

২০১৪ সালের ২৬শে আগস্ট সিলেটের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরদিন তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বেড়ে গেলে ৩০ আগস্ট মেট্রোপলিটন হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তার অবস্থার অবনতি হয়। ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সোয়া ১১টায় নিউরো সার্জারি বিভাগের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

 

অ্যালবাম সমূহ

  • বন্ধুর বাঁশি বাজে (২০০৪)
  • সুরধ্বনির কিনারায় (২০০৫)
  • রাগাঞ্জলি (২০০৬)
  • অসময়ে ধরলাম পাড়ি (২০০৬)
  • পাগলা মাঝি (২০১০)

পুরস্কার

  • ১৯৯৭ – সালে ওস্তাদ মোজাম্মেল হোসেন পদক
  • ২০০৭ – সালে ওস্তাদ মোশাররফ হোসেন পদক
  • ২০১১ – সালে ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’
  • ২০১২ – বাংলা একাডেমী ফেলোশিপ লাভ
  • ২০০০ – সালে দেশের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত গুণী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ থেকে রবীন্দ্র পদক।
  • ২০১৪ – একুশে পদক

Leave a Comment