শেখ ইশতিয়াক একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীতে ‘মেলোডি কিং’ হিসেবে পরিচিত।
Table of Contents
শেখ ইশতিয়াক । বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী
প্রাথমিক জীবন
শেখ ইশতিয়াক ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহন করেন। ছোটবেলা থেকেই গানটাকে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই ধ্রুপদী সংগীতে দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। ধীরে ধীরে আধুনিক গানের প্রতি ঝুঁকতে থাকেন।
গানের পাশাপাশি গিটারেও দারুণ দখল আনতে শুরু করেন। ফলে সুর ও সঙ্গীতায়োজনের প্রচেষ্টা ছিল ছোটবেলা থেকেই। ১৯৭৪ সালের দিকে, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই প্রথম ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন তিনি। আর ব্যান্ডের নাম রাখলেন ‘সন্ন্যাসী’। বিভিন্ন মঞ্চে, হোটেলে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গান করতে থাকে সন্ন্যাসী। ধীরে ধীরে গিটারিস্ট হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন শেখ ইসতিয়াক।

সঙ্গীত জীবন
অসম্ভব সুরেলা কণ্ঠ এবং অসাধারণ গায়কীর জন্যই খুব অল্প সময়ে সকলের মন জয় করে নেন শেখ ইসতিয়াক। একসময় বাংলাদেশের মেলোডি কিং নামে অনেক বেশি পরিচিতি লাভ করেন তিনি। একের পর এক জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়ে গিয়েছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের দিকে ‘ওগো বিদেশিনী’ চলচ্চিত্রে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ ঘটে শেখ ইসতিয়াকের। সেই থেকে তার পেশাদার শিল্পাঙ্গনে প্রবেশ।
শেখ ইসতিয়াকের সঙ্গীত জীবনে গুণী সুরকার মকসুদ জামিল মিন্টুর বিশেষ অবদান রয়েছে। শেখ ইসতিয়াকের বেশ কয়েকটি অ্যালবামের কাজ করেন মিন্টু।
১৯৮৬ সালের শেষদিকে মকসুদ জামিল মিন্টুর সুরে শেখ ইসতিয়াকের প্রথম অ্যালবাম ‘নন্দিতা’ র কাজ শেষ হয়। অ্যালবামটি প্রকাশ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এর বেশ কয়েকটি গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘নন্দিতা’ অ্যালবামের ‘নীলাঞ্জনা’, ‘একদিন ঘুম ভেঙে দেখি’, ‘আমার মনের ফুলদানিতে’ গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে বেজে ওঠে।
বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের কিংবদন্তী লাকী আখন্দের সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছিল শেখ ইসতিয়াকের। লাকী আখন্দের সরাসরি ছাত্র ছিলেন শেখ ইসতিয়াক। একত্রে অনেক গান তৈরি করেছিলেন তারা। শেখ ইসতিয়াকের গিটার খুব পছন্দের ছিল লাকী আখন্দের।
অ্যালবাম
শেখ ইসতিয়াকের সর্বমোট ৭টি একক অ্যালবাম বাজারে এসেছিল। শেখ ইসতিয়াকের সুর ও সংগীতে শেষ নিবেদন ‘তুমি অভিমানী’ অ্যালবামটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক থেকে ‘নীলাঞ্জনা’ শিরোনামে আরেকটি অ্যালবাম বের করা হয়, সেখানে শেখ ইসতিয়াকের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান একত্র করা হয়।
