সুধীরলাল চক্রবর্তী একজন বাঙালি সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী। পণ্ডিত ও সংগীতরসিক পিতা গঙ্গাধর চক্রবর্তীর পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়িতে উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসর বসতো। ফলে ছোটবেলা থেকে সংগীত শিক্ষার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
Table of Contents
সুধীরলাল চক্রবর্তী । বাঙালি সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
সুধীরলাল চক্রবর্তী ১৯১৬ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কালেক্টর অফিসের কর্মী গঙ্গাধর চক্রবর্তী ছিলেন তার পিতা। তিনি কৈশোরে কলকাতায় এসে তৎকালীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতাচার্য গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি সুর রচনাতেও তার যথেষ্ট উৎসাহ ছিলো। সেখানে তিনি পাঁচ বছর তালিম নেন।
কর্মজীবন
আধুনিক বাংলা গান, রাগপ্রধান, গজল, ঠুমরী প্রভৃতি গানে পারদর্শী এবং একজন সুদক্ষ সুরকার ছিলেন। ১৯৪৩-৪৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারকেন্দ্রের সংগীত পরিচালক। তার গাওয়া ও সুরারোপিত বহু গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয়েছে।
তার কাছে শ্যামল মিত্র, উৎপলা সেন, নীতা সেন এবং আরও অনেক সংগীতশিল্পীরা তালিম নিয়েছিলেন। শিল্পী কবীর সুমনের মতে “সূক্ষ্ম অলংকারসমৃদ্ধ আধুনিক সুররচনায় কাজী নজরুল ইসলাম ও হিমাংশু দত্তর পর তিনিই শেষ সম্রাট।”

‘মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের বুকে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার, মাকে মনে পড়ে’ গানটিকে অমর করেছিলেন তিনি। এছাড়াও ও তোর জীবন বীণা আপনি বাজে, খেলাঘর মোর ভেসে গেছে হায়, নয়নের যমুনায়, কেন ডাকো পিয়া পিয়া, রজনী গো যেওনা চলে, এখনো যায়নি লগন, গান গেয়ে মোর দিন কেটে যায় বিরহের বালুচরে, প্রথম দিনের প্রথম সে পরিচয়, এ জীবনে মোর যতকিছু ব্যাথা, যতকিছু পরাজয়, তুমি ছিলে তাই, ছিল গো বকুল, চাঁদ জেগেছিল নীল গগনে, এ দুটি নয়ন পলকে হারায় যারে, ভালবেসেছিনু আলেয়ারে (চেয়েছিনু জোছনা কৃষ্ণারাতে), আঁখি যদি ভোলে তবু মন কেন ভোলে না প্রভৃতি গানে তিনি সুরারোপ করেছিলেন এবং গেয়েছিলেন।
মৃত্যুৃ
আধুনিক বাংলা গানের খ্যাতিমান শিল্পী ও সুরকার সুধীরলাল ১৯৪৯ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যুৃবরণ করেন।
