গোয়ালিয়রের মহারাজা দৌলতরাও সিন্ধির রাজদরবারে অনেক কৃতি গায়কদের মধ্যে হসসু ও হদ্দু খাঁর নাম দুইটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। গোয়ালিয়র ঘরানা মুঘল সাম্রাজ্যের সময় বিকশিত হয়েছিল। প্রাথমিক গুরুদের মধ্যে ছিলেন নাথথান খান, নাথথান পীর বখশ এবং তার নাতি হাড্ডু, হাসু এবং নথু খান। রাজদরবারে প্রধান সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন বাড়ে মোহাম্মদ খান, যিনি তার তান বাজী শৈলীর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। বাড়ে মোহাম্মদ খান এবং নাথথান পীর বখশ উভয়েই শাহী সদরঙ্গের একই ঐতিহ্যের (মোহাম্মদ শাহের দরবারে নেমত খান, ধ্রুপদ গায়ক এবং বীণা বাদক নামেও পরিচিত) ছিলেন।
হসসু ও হদ্দু খাঁ । শিল্পী জীবনী
হস্সু ও হদ্দু খাঁর নাম দুটি ভিন্ন হলেও সঙ্গীত জগতে একটি নামের সহিত আর একটি নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ একই সময়ে একই গুরুর নিকট যথা পিতামহ নখান পীরবখস্ ও খুয়তাতের নিকট তাঁহার সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন। তাঁহারা সহোদর ভাই ছিলেন। সুমিষ্ট, কণ্ঠ, অসাধারণ মেধা ও নিষ্ঠার ফলে অতি সহজেই তাঁহারা সঙ্গীত জগতে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করিতে সমর্থ হন।

তৎসময়ে গোয়ালিয়র রাজদরবারে শঙ্কর খার পুত্র মহম্মদ খাঁ একজন গুণী খেয়াল গায়ক হিসাবে বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছিলেন। তৎকালে তাঁহার মতো শুদ্ধ খেয়াল গায়ক বিরল ছিল বলিয়া জানা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি সঙ্গীত শিক্ষা দানে পরমুখ ছিলেন।
কিন্তু হসসু ও হদ্দু খাঁ এই ভ্রাতৃদ্বয় মহারাজের বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিলেন বলিয়া, তাঁহার মহাসভায় মহম্মদ শঙ্কর খার গান চুরি করিয়া শুনিয়া তাঁহার উক্ত গায়ন শৈলী সম্পূর্ণ আয়ত্ত করিয়াছিলেন এবং পরবর্তীকালে স্বকীয় গায়ন শৈলীর সহিত উক্ত শৈলীর সংমিশ্রণ ঘটাইয়া এক নতুন গায়ন শৈলীর সৃষ্টি করেন। এই দুই ভ্রাতৃদ্বয়ের মৃত্যুকাল সম্পর্কে সঠিক কোন নজির পাওয়া যায় নাই ।
হসসু ও হদ্দু খাঁ গোয়ালিয়রের গানের শৈলীর বিকাশ অব্যাহত রেখেছিলেন। হাদ্দু খানের ছেলে ওস্তাদ বড়ে ইনায়েত হুসেন খানও একজন গায়ক ছিলেন কিন্তু তাঁর শৈলী গোয়ালিয়রের পদ্ধতিগত শৈলী থেকে সরে গেছে।
হসসু ও হদ্দু খাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন বাসুদেব বুয়া জোশী হয়েছিলেন; এবং রামকৃষ্ণ দেব সঙ্গীতজ্ঞ হয়েছিলেন। রামকৃষ্ণ দেবের ছাত্র বালাকৃষ্ণবুওয়া ইচলকরঞ্জিকর মহারাষ্ট্র রাজ্যে গোয়ালিয়রি গাইকি নিয়ে আসেন।
এই জুটির আরেকজন বিশিষ্ট শিষ্য ছিলেন অমৃতসরের একজন মুসলিম ধ্রুপদ ও ধমর গায়ক মিয়া বান্নে খান। তিনি পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে খেয়ালের প্রচলন করেন এবং তারপর হায়দ্রাবাদের নিজামের দরবারে আশ্রয় নেন। মিয়াঁ বান্নে খানের ছাত্রদের মধ্যে তার চাচাতো ভাই আমির খান (“মীরান বুখশ খান” নামেও পরিচিত), গাম্মান খান, ভাই আত্তা মুহাম্মদ, আলী বক্স খান (ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের পিতা), কালে খান, মিয়ান কাদির (সারঙ্গী), ভাই ওয়াধাওয়া, ভাই ওয়াসাওয়া, বাবা রেহমান বক্স।
