সঙ্গীত জগতে মহর্ষি ভরত একটি অবিস্মরণীয় নাম। সুপ্রাচীন কালে আমাদের সঙ্গীত যে সমস্ত সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ সৃষ্টি হইয়াছিল তন্মধ্যে “ভরত নাট্যশাস্ত্র’ নামক গ্রন্থটি অন্যতম। এই গ্রন্থটি বিশেষ করিয়া নাট্য বিষয়ক হইলেও বর্তমান কালেও উক্ত গ্রন্থটি বিগদ্ধ জনের নিকট বিশেষ সমাদৃত। নাট্য বিষয়ক আলোচনা এই গ্রন্থে মূখ্যত: স্থান পাইলেও ২৮ হইতে ৩০ অধ্যায় পর্যন্ত সঙ্গীত বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হইয়াছে।

মহর্ষি ভরত । শিল্পী জীবনী
ভরতের জন্ম সন সমৃদ্ধে বহু মতভেদ আছে, কোন মতে খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী, ভিন্ন মতে চতুর্থ হইতে পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে। ইহাছাড়া, ইতিহাসে কয়েক জন “ভরত” নামক গুনী শিল্পীরও উল্লেখ পাওয়া যায়।

বলা বাহুল্য তৎকালে নাটকের সহিত জড়িত অভিনেতাদের “ভরত” নামে অভিহিত করা হইত। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, “অমরকোষ” গ্রন্থে “নাক”কে ভরত বলা হইয়াছে। ভরত না-ট্য- শাস্ত্রকার মহির্ষি ভরত উক্ত গ্রন্থটি পঞ্চম শতাব্দীতে রচনা করিয়াছিলেন বলিয়া অনেকের ধারণা।
অনেক সঙ্গীতগুণী এই গ্রন্থটির বহু ব্যাখ্যা ও টীকা লিখিয়াছেন। বর্তমান কালেও সঙ্গীতশাস্ত্রে উক্ত গ্রন্থের স্থান অপরিহার্য। ভরতমুনি যে দুইটি বাণীর চর্চা করিতেন তন্মধ্যে সাত তার যুক্ত বীনাটির নাম ‘চিত্রাবীণা’ এবং একুশতার যুক্ত বীণার নাম ছিল “বিপক্ষী বীণা।

