
পৃথিবীর যত জাতীয় সঙ্গীত বইটি সেখ আবদুল ওয়াদুদ এর সারা জাগানো একটি বই। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেনকোয়ারি পাবলিক লাইব্রেরিতে, আমি একটা বই-এর সন্ধান পাই- যার নাম- National Anthem of the World, বইটির সম্পাদনা করেছেন ডব্লিউ এল রিড এবং এম জে ব্রিজটো। বইটি লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
বইটি হাতে পেয়েই আমার মনে হয়েছিল কোন্ দেশের জাতীয় সঙ্গীতে কী বলা হয়েছে একটু দেখা যাক। সুতরাং সেটি আমি আদ্যোপান্ত পড়ে শেষ করি। খুবই ভাল লাগে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতার বিচিত্র সব অনুভূতি, দেশের প্রতি তাদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ, দেশকে নিয়ে সুখদুঃখের মালাগাঁথা এসব কবিতা আমাকে অভিভূত করে। ভাবতে বসি, আমার মতই তো আরও অনেকের এমন একটা বই পড়ার ইচ্ছা হতে পারে। সুতরাং বইটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করলে কেমন হয়! যারা মূল ইংরেজি লেখাটা হাতে পাচ্ছেন না এবং যারা বাংলাতে সঙ্গীতগুলো পড়তে ইচ্ছুক সবারই তাতে আগ্রহ মিটবে।
বলা বাহুল্য, বইটি পৃথিবীর নানা ভাষার জাতীয় সঙ্গীতকে মূল স্বরলিপি সহ ইংরেজিতে অনুবাদ করা। তবে, ইংরেজি ব্যতীত অন্যান্য ভাষার সঙ্গীত ও তার মূল ভাষাকে রোমান হরফে উদ্ধৃত করা এবং মূল সুরের স্বরলিপিও সেই সঙ্গে প্রদত্ত হয়েছে। ফলে, তার পৃষ্ঠাসংখ্যা হয়েছে প্রায় ছয়শ’র মত। সেই অনুযায়ী মূল্যও অনেক বেশি।
আমি তাই বইটিকে সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্যে অন্য সব বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সঙ্গীতগুলিকেই অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে অনেক ক্ষেত্রে কবি এবং সুরকারের নামকে ইংরেজিতেই রাখতে হয়েছে- কারণ, বিদেশী নামের উচ্চারণ অনেক ক্ষেত্রেই আর এক ভাষার মানুষের জন্যে কঠিন- তাই, যতদূর পারা যায়, ভুলের সম্ভাবনা এড়াতেই এ কাজটি করতে হয়েছে। মূল বইতে ১৮১টি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের উল্লেখ করা আছে। পৃথিবীতে এখন যদিও মোট দেশের সংখ্যা আরও বেশি, তবুও, আমি সেই ১৮১টি জাতীয় সঙ্গীতেরই অনুবাদ করেছি।